October 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

সংসদীয় কমিটিগুলো কার্যক্রমে টিআইবি`র ১১ সুপারিশ

সংসদ প্রতিবেদক : সরকারের কাজের জবাবদিহীতার জন্য গঠিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠিত হলেও তা প্রত্যাশা অনুযায়ী কার করছে না বলে দাবি করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এছাড়া নবম ও দশম জাতীয় সংসদে প্রথম অধিবেশনে সব কমিটি গঠন ও দশম সংসদে দলীয় প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে সদস্য নিযুক্তের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক, রাজনৈতিকসহ বিবিধ চ্যালেঞ্জের কারণে কমিটির ওপর সার্বিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এজন্য কমিটিগুলো কার্যকর হচ্ছে না বলে প্রতিষ্ঠানটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এসব সমস্যা সমাধানে ১১ দফা সুপারিশ করেছে টিআইবি।

রোববার সকালে প্রতিষ্ঠানটি ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের এ প্রতিবেদন উপস্থাপন ও ১১ দফা সুপারিশ করা হয়। ‘বাংলাদেশে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কার্যকরতা : সমস্যা ও উত্তরণের উপায়’ শীষর্ক গবেষণা প্রতিবেদনের সারাংশ উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি ও ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফাতেমা আফরোজ।

টিআইবি`র সুপারিশগুলো হলো-

১.    সংবিধানের ৭৬ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করে সাক্ষী হাজিরা, সাক্ষ্য প্রদান এবং দলিলপত্র দেওয়ায় বাধ্য করার ক্ষমতা কমিটিকে দিতে হবে।

২.    সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি সংশোধন করে নিম্নলিখিত পরিবর্তন করতে হবে-
(ক) সভাপতি ও সদস্যদের বাণিজ্যিক, আর্থিক সম্পৃক্ততার তথ্য প্রতিবছর হালনাগাদ করে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করার বাধ্যতামূলক বিধান করতে হবে।
(খ) কমিটির সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বার্থের দ্বন্দ্ব সম্পর্কিত তথ্য পুরোপুরিভাবে যাচাই করার এবং কোনো সদস্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির পর কমিটি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক স্বার্থ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে উক্ত সদস্যকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার বিধান রাখতে হবে।
(গ) বর্তমান বা পূর্বতন কোনো মন্ত্রীকে সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি/ সদস্যপদ না দেওয়ার বিধান করতে হবে।
(ঘ) কমিটিতে সহ-সভাপতির পদ প্রবর্তন করতে হবে।
(ঙ) স্থায়ী কমিটিগুলোর অন্তত ৫০ শতাংশ কমিটিতে বিশেষ করে আর্থিক কমিটিগুলোতে বিরোধী দলের মধ্য থেকে সভাপতি নির্বাচন করতে হবে।
(চ) সংসদে নারী সদস্যের প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে সভাপতি ও সদস্য নির্বাচন করার বিধান করতে হবে।
(ছ) প্রাক-বাজেট আলোচনার জন্য অর্থবিল অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটিতে প্রেরণ করতে হবে।
(জ) গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা যেমন- জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংবেদনশীল বিষয় ছাড়া সাধারণভাবে কমিটির সভা সংসদ টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করতে হবে।
(ঝ) কমিটি সভায় কোনো সদস্যের অনুপস্থিত থাকার ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিক করতে হবে।

৩.    প্রতিটি কমিটিকে প্রতিমাসের নির্দিষ্ট দিন ও সময় নির্ধারণ করে বার্ষিক ক্যালেন্ডার বছরের শুরুতেই তৈরি ও প্রকাশ করতে হবে।

৪.    কমিটির কার্যক্রমের বার্ষিক মূল্যায়ন এবং সকল কমিটির মধ্যে সমন্বয় সাধন করার জন্য একটি সংযোগ কমিটি গঠন করতে হবে।

৫.    কমিটির সুপারিশের আলোকে মন্ত্রণালয়ের গৃহীত ব্যবস্থা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার তিন মাসের মধ্যে লিখিতভাবে কমিটিকে জানানো বাধ্যতামূলক করতে হবে।

৬.    কমিটির প্রতিটি সভার কার্যবিবরণী সভা-পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে এবং পূর্ণাঙ্গ বার্ষিক প্রতিবেদন প্রতিবছর সংসদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।

৭.    কমিটির প্রতিবেদন প্রণয়নে সুনির্দিষ্ট নির্দেশক ভিত্তিক (উপস্থিতি, কমিটি পুনর্গঠনের কারণ, কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, তলব ও সাক্ষ্য গ্রহণ ইত্যাদি) অভিন্ন ফরমেট ব্যবহার করতে হবে।

৮.    কমিটির কার্যক্রমে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে এবং এ খাতে (গণশুনানি, বিশেষজ্ঞ নিয়োগ) পৃথক ও সুনির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ ও কর্ম পরিকল্পনা রাখতে হবে।

৯.    সংসদ সচিবালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রণোদনা হিসেবে ঊর্ধ্বতন পদসমূহে পদোন্নতির সুযোগ তৈরি করতে হবে এবং প্রেষণে নিযুক্ত কর্মকর্তার সংখ্যা পর্যায়ক্রমে হ্রাস করতে হবে।

১০.    কমিটির আলোচ্যসূচি নির্ধারণে সদস্যদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে। কমিটিকে সাচিবিক ও টেকনিক্যাল সহায়তা করার জন্য দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদেরকে অধিক সম্পৃক্ত করতে হবে।

১১.    সভার পূর্বে সভাপতি ও সদস্যের প্রস্তুতির জন্য কমিটি শাখার পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পূর্ববর্তী সভার আলোচিত বিষয় ও সিদ্ধান্তের অগ্রগতির সুনির্দিষ্ট তথ্য সংবলিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সরবরাহ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যেদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন- টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম হাফিজউদ্দিন খান, নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান প্রমুখ।