June 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

স্বাস্থ্য অধিদফতরের নতুন মহাপরিচালক নিয়ে জল্পনা

বিশেষ প্রতিনিধি : কে হচ্ছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের নতুন মহাপরিচালক? বর্তমান মহাপরিচালক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নুরুল হকের চুক্তিভিত্তিক চাকরির মেয়াদ আগামী ৩০ আগস্ট শেষ হচ্ছে। ফলে পরবর্তী মহাপরিচালক কে হতে যাচ্ছেন তা নিয়ে গত দু’মাস যাবত স্বাস্থ্য সেক্টরে নানা গুঞ্জন ও জল্পনা কল্পনা চলছে।

পরবর্তী সম্ভাব্য মহাপরিচালক হিসেবে বর্তমান ও সাবেক মোট পাঁচ শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নাম মুখে মুখে ফিরছে। এরা হলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের বর্তমান মাপরিচালক অধ্যাপক দীন মোহাম্মদ নুরুল হক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. এবি এম আবদুল হান্নান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খান ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (বর্তমানে ওএসডি) অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. শিফায়েতউল্লাহ্।
/যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের পক্ষে একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ, রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) নেতারা বিভিন্ন জনের পক্ষে তদবির ও সুপারিশ করছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এতদিন বিভিন্ন জনের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত বর্তমান মহাপরিচালকই পুনঃনিয়োগ পেতে যাচ্ছেন!

বাংলাদেশ ক্যাডার সার্ভিস (বিসিএস) রুলস ১৯৮১ অনুসারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক পদটি দ্বিতীয় গ্রেডের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার। মহাপরিচালকের নিয়মিত পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল পদে তিন বছর বা যে কোন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে একই সময়ের অভিজ্ঞতা থাকা অত্যাবশ্যক।
/যাদের নাম আলোচনায় আসছে তারা একাডেমিক ও প্রশাসনিকভাবে কতটা দক্ষ ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন দলের অনুসারী কিনা তা খতিয়ে দেখে সর্বোচ্চ যোগ্য লোককে নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

বিএমএ ও স্বাচিপ শীর্ষ নেতাদের একটি অংশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খানের পক্ষে জোর তদবির করছেন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, স্বাস্থ্য সেক্টরকে আরো গতিশীল করতে ইসমাইল খানের মতো যোগ্য নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা এ মুহূর্তে আর কারো নেই।
/
তাদের অভিযোগ বর্তমান মহাপরিচালক গত দুই বছর ডিজির দায়িত্বপালনকালে অফিসে ঠিকমতো সময় দেননি। তিনি সময়মতো অফিসে আসতেননা। অফিস টাইমের পর ফাইল সই করতেন। চক্ষু বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি গভীর রাত পর্যন্ত রোগী দেখার পাশাপাশি চোখের অস্ত্রোপচার করাতে ব্যস্ত থাকায় স্বাস্থ্য সেক্টরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

বিএমএ ও স্বাচিপ নেতাদের অন্য একটি অংশ বর্তমান মহাপরিচালকের পুনঃনিয়োগের জন্য জোর তদবির করছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের দুই অতিরিক্ত  মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এ বি এম আবদুল হান্নান ও আবুল কালাম আজাদ দুজনেই প্রশাসনিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতার সাথে চাকরি করছেন।

এবিএম আবদুল হান্নান রাজশাহী মেডিকেল কলেজে প্রিন্সিপাল পদে চাকরির পাশাপাশি গত কয়েকবছর যাবত স্বাস্থ্য অধিদফতরে পরিচালক হিসেবে চাকরি করছেন। তার চাকরির মেয়াদ আগামী মাসেই শেষ হচ্ছে বলে জানা গেছে।
/
অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ দেশের স্বাস্থ্য সেক্টরকে ডিজিটালাইজড করার পক্ষে দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। তার নামও গত দুই বছর যাবতই শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত নিয়োগ পাননি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের (ওএসডি) সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. শিফায়েতউল্ল্যাহকেও ডিজি হিসেবে ফের নিয়োগের গুঞ্জন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা শিফায়েতউল্ল্যাহর নাম প্রস্তাব করে বলেছেন, তার মতো সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা স্বাস্থ্য অধিদফতরে একজনও নেই।
/
মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বপালনকালে তার সরলতার সুযোগে তাকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে কেউ কেউ বলছেন, দুর্নীতির অভিযোগে তাকে ডিমোশন দিয়ে এক ধাপ নীচের কর্মকর্তা বানানো হয়েছে। তাই মহাপরিচালক পদে তার নিয়োগ পাওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনেক কর্মকর্তার নাম শোনা গেলেও ৩০ আগস্টের মেয়াদ যত ঘনিয়ে আসছে সব নাম ছাপিয়ে এককভাবে বর্তমান মহাপরিচালক দীন মোহাম্মদ নুরুল হকের নাম সর্বমহলে শোনা যাচ্ছে।

মহাপরিচালক পদে তিনি ফের চুক্তিভিত্তিক পুনঃনিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক মহলের নির্দেশে ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সম্মতিতে তার চুক্তিভিত্তিক চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যেই প্রস্তাবনা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তার চুক্তিভিত্তিক চাকরির আদেশ জারি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সমর্পণ করবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাকে মহাপরিচালক পদে নিয়োগ প্রদান করবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত দীন মোহাম্মদ নুরুল হকের একক নাম শোনা গেলেও প্রধানমন্ত্রী চাইলে শেষ পর্যন্ত অন্য কাউকেও নিয়োগ দেয়া হতে পারে। এ জন্য ৩০ আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।