September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

এফবিআইয়ের ‘সহায়তা’ নিস্ফল

ডেস্ক প্রতিবেদন : দেশে বিভিন্ন সময় ঘটে যাওয়া বেশ কিছু হত্যা মামলায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সহায়তা নিলেও উল্লেখযোগ্য কোনো ফলাফল আসেনি কখনোই। তারপরেও কেনো এফবিআইয়ের কাছে যাওয়া?

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, এফবিআয়ের আগ্রহের কারণেই সরকারি নির্দেশে আলামত পাঠানো হয়েছিলো। অন্যদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, সহযোগিতা নেয়ার উদ্যোগটা ভালো। কিন্তু সেটি কার্যকরী না হলে বিদেশনির্ভর না হওয়াই উচিৎ।

লেখক ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যার পর মামলার তদন্তে যোগ হয় মার্কিন গোয়েন্দা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- এফবিআই। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত নিয়ে যায়। কিন্তু এখনো সেদিক থেকে কোনো ফল আসেনি।

এছাড়া সাংবাদিক দম্পতি-সাগর রুনি হত্যা মামলার আলামতও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিলো এফবিআই ল্যাবে। দীর্ঘ সময় পর সে তদন্তে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। অন্যদিকে, অভিজিৎ মার্কিন নাগরিক হওয়ায় এই মামলা তদন্তে এফবিআই কোনো টাকা না নিলেও অন্যান্যগুলোতে মোটা অংকের খরচ টানতে হয়েছে সরকারকে।

গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, “এই আলামতগুলো ঢাকা মেডিকেলের অথবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেই ডিএনএ ল্যাব আছে সেখানেও পরীক্ষা করানো যেতো। কিন্তু যেহেতু তারা আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছে। আমরাও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তাদেরকে এই মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ দিয়েছি।”

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সেটির রহস্য উদঘাটনের প্রাথমিক দায়িত্ব দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। কোনো কারণে বাইরের দেশের সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে। তবে শুধু তাদের ওপর নির্ভর না করে দেশীয় সংস্থাগুলোকে গতিশীল করার দিকে নজর দেয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এই বিষয়ে অপরাধ বিজ্ঞানী শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, “সহযোগিতা নিতে সমস্যা নেই। কিন্তু সেটি কার্যকর হতে হবে। সেই সহযোগিতাটা যদি বিলম্বিত হয়ে যায়, তবে সেটিকে আমরা ইতিবাচক বলতে পারি না।”

তিনি আরো বলেন, “মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের স্বার্থ অনুযায়ী তৎপর হয়। তাই তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা নেয়ার সময় এ বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখা উচিৎ।”