December 6, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

নাগরিকত্ব নিয়ে শংশয়ে ছিটমহলে নিবন্ধন-বঞ্চিতরা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সদ্য বিলুপ্ত একশো ১১টি ছিটমহলে জনগণনা থেকে বাদপড়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দাশিয়ারছড়া ছিটমহলের প্রায় দেড় হাজার মানুষ এ সংশয়ে রয়েছে।

২০১১ সালের জনগণনার পর থেকে ছিটমহলে স্থায়ীভাবে বাস করেও ২০১৫ সালের যৌথ নিবন্ধনে বাদ পড়ে অনেকে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সরকার সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেয়। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এ নির্দেশনা পেয়ে মঙ্গলবার দাশিয়ারছড়ায় তদন্ত করেন তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল।

ফুলবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, “পত্রিকায় প্রকাশিত নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান ও ইউএনও অফিসের স্টাফ আমিনুলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবারের মধ্যে তারা রিপোর্ট দাখিল করবে।”

তিনি আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাশিয়ারছড়া সফর করতে পারেন, এ রকম সম্ভাবনা মাথায় রেখে হেলিপ্যাড নির্মাণের স্থান ও যাতায়াত রুট কী হতে পারে তা সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। এ পরিদর্শন টিমে ছিলেন ভুরুঙ্গামারী ইউএনও এজেড এরশাদ আহসান হাবীব ও ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন মাহমুদ।”

কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আকতার হোসেন আজাদ বলেন, “বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত যৌথ কমিটির বৈঠক সোমবার ভারতের কোচবিহার জেলার মেকলিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ছিটমহল সংশ্লিষ্ট কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও নীলফারী জেলার জেলা প্রশাসকসহ ১৭ সদস্যের বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।”

তিনি আরও বলেন, “কুড়িগ্রামের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলে তার সঙ্গে ছিলেন পুলিশ সুপার তবারক উল্লাহ ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এজেড এরশাদ আহসান হাবিব। এ সভায় ভারত-বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত (সদ্য বিলুপ্ত) একশো ৬২টি ছিটমহলের নিবন্ধন থেকে বাদ পড়াদের বিষয়ে আলোচনা হয়।”

তিনি বলেন, “যাদের নাম ২০১১ সালের যৌথ জরিপে তালিকাভুক্ত হয়েছে কিন্তু চলতি বছরের জনগণনায় নেই, তারা ১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে গণ্য হয়েছে। আর যাদের দুটি তালিকার একটিতেও নাম নেই তাদের ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে। বাদপড়া অধিবাসীদের জেলা প্রশাসক বরাবর যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করতে হবে।”

জেলা প্রশাসক বলেন, “এরকম বাদপড়ার ঘটনা ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলেও ঘটেছে। এ ব্যাপারে বাদপড়াদের আবেদন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত সংক্রান্ত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ মিটিং করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সে পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরতে অনুরোধ করছি।”

তিনি আরও বলেন, “বৈঠকে সদ্য বিলুপ্ত ৬২টি ছিটমহলের সিএস রেকর্ড হস্তান্তর করা হয়। এতে ভুরুঙ্গমারী উপজেলার দুটি ছিটমহলের সিএস রেকর্ড আছে। পর্যায়ক্রমে বাকি একশোটি সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলের সিএস রেকর্ড হস্তান্তর করা হবে। তখন ছিটমহলের জমির মালিকানা নিয়ে আর কোনো ঝামেলা থাকবে না।”

মো. আকতার হোসেন আজাদ বলেন, “এছাড়া বৈঠকে ভারতের নাগরিকত্ব চাওয়া নয়শো ৭৯ জন ছিটমহলবাসীকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত ভারতে গমনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। চলতি মাসেই ভারতের প্রতিনিধি দল ভারত গমনেচ্ছুদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলগুলো পরিদর্শনে আসবে।”

তিনি বলেন, “বৈঠকে দু’দেশের সদ্য বিলুপ্ত একশো ৬২টি ছিটমহলের প্রথম পর্যায়ে ৬২টি ছিটের সিএস রেকর্ড বিনিময় করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে যুক্ত হওয়া একশো ১১টির মধ্যে ৪৩টির সিএস রেকর্ড হস্তান্তর করে ভারত। অপরদিকে ভারতের সাথে যুক্ত হওয়া ৫১টির মধ্যে ১৯টি ছিটমহলের ভূমির সিএস রেকর্ড ভারতের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল।”