June 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

‌'মতামতে হস্তক্ষেপ নয়, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনুন'

ডেস্ক প্রতিবেদন : সেল্ফ-সেন্সরশিপ উপস্থাপনের পরিবর্তে বাংলাদেশ সরকারকে বাগস্বাধীনতা রক্ষায় নিজেদের অঙ্গীকার পূরণে দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

সম্প্রতি ব্লগার নিলাদ্রী চক্রবর্তী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মঙ্গলবার এ বিবৃতি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৭ আগস্ট সেক্যুলার ব্লগার নিলাদ্রীকে (নিলয় নীল) হত্যার ঘটনা এটাকেই স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, স্বাধীন মত প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার চেষ্টা রোধ ও সবার নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংস্থাটি বলেছে, চলতি বছর সেক্যুলারিজমের পক্ষে কথা বলায় চতুর্থ ব্লগার হিসেবে নিলয় নীলকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে। নিহত চারজনই চরমপন্থী দলের করা ৮৪ ব্লগারের তালিকাভুক্ত। এদের তারা (চরমপন্থী) ইসলামবিদ্বেষী ও ধর্ম অবমাননাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে।

বিবৃতিতে পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমের সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, নিলয়ের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের ব্যর্থতার পরিবর্তে সংস্থাটির আইজি (ইন্সপেক্টর জেনারেল) একেএম শহীদুল হক বলেছেন, ‘আমাদের আইন অনুযায়ী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া অপরাধ।’

আরও বলা হয়েছে, দ্রুত তদন্ত নিশ্চিতের পরিবর্তে হক বলেছেন, ‘মুক্ত চিন্তাকারী ও লেখকদের অনুরোধ করছি, সীমালঙ্ঘন না করার বিষয়টি নিশ্চিত করুন। কারও ধর্মীয় অনুভূতি বা বিশ্বাসে আঘাত করে এমন কিছু লেখা উচিত নয়।’

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক প্রধান ব্রাড এডামস বলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে, পুলিশের কাছে হুমকির অভিযোগ জানানোর পরও ব্লগারদের রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার শুধু ব্যর্থতারই পরিচয় দেয়নি, সেল্ফ-সেন্সরশিপও তুলে ধরছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের উচিত সংবিধান রক্ষা, জনগণের জানের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় নিজেদের দায়িত্ব পালন করা।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্লগারদের হত্যার ঘটনার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা ব্লগারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তার সরকারও বাগস্বাধীনতাকে লক্ষ্যবস্তু, সুশীল সমাজ এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি ও বিচার প্রক্রিয়াকে অবজ্ঞা, গণমাধ্যম বন্ধ এবং নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ম লঙ্ঘনের সমালোচনাকারী মানবাধিকারকর্মীদের গ্রেফতার করছে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে ব্লগারদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও বিচারে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বানও জানানো হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় ব্লগার অভিজিৎ রায়কে হত্যা করা হয়। মার্চে ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান ও মে’তে একই ভাবে সিলেটে ব্লগার অন্তত বিজয় দাসকে হত্যা করা হয়।