October 7, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

অবশেষে হলমার্ক কেলেঙ্কারির বাকি অনুসন্ধান শুরু

বিশেষ প্রতিনিধি : প্রায় দেড় বছর পর অবশেষে হলমার্ক কেলেঙ্কারির নন-ফান্ডেড অংশের (দ্বিতীয় অংশ) প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযোগ কমিশনের সিডিউলভুক্ত অপরাধের তালিকায় থাকা সত্ত্বেও অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘদিন এ অনুসন্ধান কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সম্প্রতি কমিশনের বিশেষ সভায় এ অভিযোগ অনুসন্ধানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিশনের সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বাধীন একটি টিমকে এ অনুসন্ধান শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুদক সূত্র দ্য রিপোর্টকে এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

দুদক সূত্র জানায়, হলমার্ক ও তার পাঁচ সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফান্ডেড, নন-ফান্ডেডসহ মোট তিন হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রয়েছে। এর মধ্যে ফান্ডেড অংশের তদন্ত শেষ করেছে কমিশন। এ অংশে দায়ের করা মোট ৩৮টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মামলাগুলোর চার্জশিট ইতোধ্যেই আদালতে দাখিল করেছে কমিশন।

এদিকে হলমার্ক কেলেঙ্কারির ফান্ডেড অংশের তদন্ত চলাকালীন ২০১৪ সালের ৮ এপ্রিল দাফতরিকভাবে নন-ফান্ডেড অংশের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা লোপাটের অনুসন্ধান কাজ বন্ধ করে কমিশন।

অনুসন্ধান বন্ধের পর টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছিলেন, ‘দুদকের এ রকম সিদ্ধান্তহীনতা কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। একই সঙ্গে এ অনুসন্ধান না করার সিদ্ধান্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ব্যাংকারদের মধ্যে অপরাধ করেও পার পেয়ে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। দুদকের সিডিউলভুক্ত অপরাধের অনুসন্ধান কাজ বন্ধ করা উচিত নয়। আর বন্ধ করতে হলে কমিশনকে এর যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে হবে।’

সমাজের বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে কথা উঠলে পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালের ১৩ মে পুনরায় অনুসন্ধানের ঘোষণা দেয় কমিশন। কার্যত এ ঘোষণার পর থেকে অনুসন্ধানের অগ্রগতির স্বার্থে কোনো কাজই করা হয়নি।

সূত্র আরও জানায়, ৩৭টি ব্যাংকের ১২০টি শাখায় হলমার্কের নন-ফান্ডেড অংশের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ সব ব্যাংক থেকে হলমার্ক নগদ হাতিয়ে নিয়েছে এক হাজার ৫৩৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

নন-ফান্ডেড অংশের জালিয়াতিতে আক্রান্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সরকারি সাতটি, বেসরকারি ২৫টি ও বিদেশি পাঁচটি ব্যাংক রয়েছে। এসব ব্যাংকর সঙ্গে হলমার্ক সুতা, তুলা, ফেব্রিক্স এবং এক্সেসরিস সরবরাহ করেছে মর্মে জালিয়াতি করা হয়েছে।

সরকারি সাত ব্যাংক হলো— অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক, কৃষি, সোনালী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক।

বেসরকারি ২৫টি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে— প্রিমিয়ার, ব্র্যাক, ন্যাশনাল, ইউসিবিএল, ওয়ান, সিটি, উত্তরা, প্রাইম, ইসলামী, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, মার্কেনন্টাইল, যমুনা, শাহজালাল, আল-আরাফা, সাউথইস্ট, এসসিসি, এসআইবিএল, এক্সিম, আইএফআইসি, ট্রাস্ট ব্যাংক, পূবালী, ডাচ বাংলা, ঢাকা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও এবি ব্যাংক।

বিদেশী পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে— স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্থান, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক লিমিটেড, ব্যাংক আল-ফালাহ লিমিটেড ও এইচএসবিসি ব্যাংক লিমিটেড।