June 17, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

এবার চার মন্ত্রী ‘নাস্তিক’ তালিকায়!

ডেস্ক প্রতিবেদন : ‘নাস্তিক’ ব্লগার হত্যার ধারাবাহিকতা চলছেই। ধর্ম অবমাননা করে ব্লগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন লেখালেখির কারণে এই ব্লগারদের হত্যা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কারা এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না পুলিশ।

এর আগে ‘নাস্তিক ব্লগারদের’ তালিকা দিয়ে উড়োচিঠিতে তাদের হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল। এবং হত্যার পরপর কোনো না কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার করে বিবৃতিও দিচ্ছে।

এবার ‘নাস্তিক’ আখ্যা পেলেন সরকারের চার মন্ত্রী। এরা হলেন- কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বেসরকারি বিমার ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এদের ‘নাস্তিক মুরতাদ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রয়াত মুফতি আমিনীর ছেলে মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের সামনে ‘ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাশ করার দারি’ খেলাফতে ইসলামী বাংলাদেশ আয়োজিত সমাবেশে দলটির আমির ও ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়াররম্যান এ আখ্যা দেন।

আবুল হাসানাত আমিনী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চার পাশে নাস্তিক-মুরতাদরা রয়েছে। এই নাস্তিক-মুরতাদ মতিয়া চৌধুরী, সুরঞ্জিত, ইনু, রাশেদ খান মেনন। এই নাস্তিকরা প্রধানমন্ত্রীকে ঘেরাও করে রেখেছে। এই নাস্তিকদের কারণেই নাস্তিক মুরতাদদের বিরুদ্ধে সংসদে আইন পাস হচ্ছে না।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি যদি নাস্তিক-মুরাদদের প্রধানমন্ত্রী না হন, মোসলমানদের প্রধানমন্ত্রী হন তাহলে আইন পাস করুন। নাস্তিক মুরতাদরা যেভাবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে, এদের বিরুদ্ধে আইন পাস করতে হবে। যদি আইন না পাস করে আমরা সংসদ অভিমুখে লংমার্চ করবে ইনশাল্লাহ।’

তিনি আরো বলেন, ‘নাস্তিক-মুরতাদ লতিফ সিদ্দিকীর যদি বিচার না হয়, বাংলার জমিনে সকল নাস্তিক-মুরতাদের মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হবে।’

কোরবানির পশুর হাট ও জবাইয়ের স্থান নির্দিষ্ট করে দেয়ার কারণে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি মেয়রদেরও এক হাত নেন তিনি।

উল্লেখ্য, উপরোক্ত চার মন্ত্রী এক সময় বামপন্থি রাজনীতি করলেও ইনু ও মেনন গত বছর পবিত্র হজব্রত পালন করেন।

সমাবেশে হাসানাত আমিনী প্রায় ৮ মিনিট বক্তব্য দেন। এর আগে বক্তব্য দেন- খেলাফতে ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আলতাফ হোসাইন, উলামা কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাওলানা যোবায়ের আহমেদ, মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ তৈয়্যব হোসাইন, দলের নায়েবে আমীর মাওলানা আবুল কাশেম, মহা সচিব মাওলানা ফজলুল রহমান প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নিয়ে বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে প্রেসক্লাব গিয়ে মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। সমাবেশের কারণে দৈনিক বাংলা থেকে পল্টন পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।