June 18, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

সামগ্রিক বিবেচনায় জনকণ্ঠের সাংবাদিকদের সাজা: মাহবুবে আলম

আদালত প্রতিবেদক : রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন সমগ্র বিষয় বিবেচনায় নিয়েই জনকণ্ঠের সম্পাদক-প্রকাশক ও মুদ্রাকর মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ (এম এ খান মাসুদ) এবং নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়ের বিরুদ্ধে সাজা দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার এই দুই সাংবাদিকের আদালত অবমাননার রুলের রায়ের পরই তিনি তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সংক্ষিপ্ত রায়ে আদালত বলেছেন, কন্টেম্পট অ্যাক্ট পুরানো হয়ে গেছে নতুন করে প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ের উপর জোর দিয়েছেন আদালত।

তিনি বলেন, ‘আদালত এও বলেছেন, হা্ইকোর্ট এবং সুপ্রিমকোর্ট তারা শুধুমাত্র কন্টেমপ্ট অব কোড ১৯২৬ এর আন্ডারে এই কন্টেম্প রুল ইস্যু করেননি। তারা সংবিধানের যে বিধান আছে তার আলোকে কন্টেম্পট অব রুল জারি করেছে’।

সমগ্র বিষয়সমূহ বিবেচনা করে আতিকউল্লাহ খান মাসুদ এবং স্বদেশ রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দিয়েছেন আদালত বলেও মন্তব্য করেন এই আইন কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, এই দুই সাংবাদিকের জরিমানার অর্থ সাতদিনের মধ্যে যে কোনো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হবে, তা না হলে আরো সাতদিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

অ্যাটর্নি বলেন, আদালত বলেছেন কোর্টকে কোনোভাবেই স্ক্যান্ডালাইজড করা যাবে না এবং সেটা সার্বিকভাবে কোর্ট হোক বা যে কোন বিচারক হোক। সমালোচনা করা যাবে কিন্তু তার মাধ্যমে কাউকে স্ক্যান্ডালাইজড করা যাবে না।

কন্টেম্পেটের বিষয়ে অন্য মামলায় কি দেওয়া হলো আর এই মামলায় কতখানি দেওয়া হবে সেটা বিবেচ্য বিষয় না। কোর্ট বিভিন্ন মামলায় বিভিন্ন সাজা দিতে পারে।

তিনি বলেন, কোর্ট সামগ্রিক বিষয়গুলো বিবেচনা করে এ রায় দিয়েছেন। কাজেই মাহমুদুর রহমানকে ছয় মাস সাজা দেওয়া হয়েছে আর আতিকউল্লাহ খান মাসুদকেও ছয় মাস সাজা দেওয়া হবে এই কথা ঠিক না। এটা আদালতের বিবেচ্য বিষয়। ছয়জন বিচারপতি বসে সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা এ রায় দিয়েছেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, লেখার মাধ্যমে অবশ্যই আদালত অবমাননা হয়েছে এবং সেজন্যই ওনাদের আজ (বৃহস্পতিবার) এ দণ্ড দেওয়া হলো এবং জরিমানা করা হলো। আদালত অবমাননার এক ঘন্টার দণ্ড আর এক বছরের দণ্ড দুইটাই কিন্তু দণ্ড।

তিনি বলেন, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধানেই দেয়া আছে। আদালত সংক্ষিপ্ত রায়ে সেটি বলেছেন কিন্তু তার কতগুলো লিমিটেশন থাকবে। স্বাধীনভাবে কথা বলা মানেই এই না লাগামহীন হতে থাকবে। আদালত অবমাননার সীমারেখা আছে সেটা বিবেচনায় নিতে হবে।