October 23, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

জনবল সংকটে ঝুঁকিতে সান্তাহার-লালমনিরহাট রেলরুট

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : নিয়োগ-প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় তীব্র জনবল সংকটে পড়েছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সান্তাহার-লালমনিরহাট রুট। বর্তমানে এ রুটের ৩১টি রেল স্টেশনের মধ্যে অন্তত ১৬টির অপারেশনাল ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ১৪টি আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেন।

গাইবান্ধা রেল স্টেশন সূত্র জানায়, বন্ধ হওয়া ১৬টি স্টেশন হচ্ছে গাইবান্ধার অন্তর্গত হাসানগঞ্জ, নলডাঙ্গা, কুপতলা, ত্রিমোহিনী, বাদিয়াখালী, মহিমাগঞ্জ ও শালমারা। রংপুরের অন্তর্গত মহেন্দ্রনগর, অন্নদানগর ও চৌধুরানী। বগুড়ার অন্তর্গত ভেলুরপাড়া, সৈয়দ আহম্মদ কলেজ, কাহালু, পাঁচপীর মাজার, আলতাফনগর ও নশরৎপুর। এসব স্টেশনের কোনওটিতে স্টেশন মাস্টার নেই আবার কোনওটাতে পয়েন্টসম্যান নেই।

প্রতিটি স্টেশনে তিনজন স্টেশন মাস্টার, দুজন পোর্টার, চারজন পয়েন্টসম্যান ও একজন ঝাড়ুদারসহ মোট ১০ জন কর্মকর্তা থাকার কথা। অথচ এসব স্টেশনে এক থেকে দুজন করে কর্মচারী নিয়োজিত আছেন।

রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, বিভিন্ন টেকনিক্যাল পদে নিয়োগ করা হলেও বাণিজ্যিক ও অপারেশনাল পদে লোক নিয়োগ হচ্ছে না। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রক্রিয়াও মামলার কারণে আটকে গেছে। এতে পরিস্থিতি কোনওভাবেই সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মহিমাগঞ্জ স্টেশনে দুটি লাইনের মধ্যে একটি খুলে রাখা হয়েছে। অন্য লাইনটি আগাছায় ঢেকে গেছে। স্টেশন মাস্টারের কার্যালয় তালাবদ্ধ। ট্রেনের জন্য অপেক্ষমাণ মহিমাগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী মনজুর হাবীব বলেন, বগুড়া মেইল দুপুর ১২টায় এখানে আসার কথা। সাড়ে ১১টায় স্টেশনে এসেছি। বেলা দেড়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। পরে ট্রেনটি কোথায়, সেটি জানতে গিয়ে দেখি স্টেশন মাস্টারের কার্যালয় তালাবদ্ধ। টিকিট দেওয়ার কেউ নেই। এরপর বেলা আড়াইটার দিকে ট্রেন এলে বিনা টিকিটেই তাকে ট্রেনে ভ্রমণ করতে হলো।

স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের পানের দোকানি ধলু মিয়া বলেন, ইচ্ছেমতো ট্রেন আসছে, ইচ্ছেমতো যাচ্ছে। এর ফলে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটছে।

ওই স্টেশনে কর্মরত রেলের পোর্টার সাইফুল ইসলাম জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমি একাই স্টেশনের সম্পদ পাহারা দিচ্ছি। একই অবস্থা নলডাঙ্গা স্টেশনের। এখানে দীর্ঘদিন ধরে কোনও কর্মকর্তা নাই। এই স্টেশনে তিনটি লাইনের মধ্যে প্রথম লাইনটি চালু রাখা হয়েছে। অন্য দুটি ট্রেন চলাচল না করায় আগাছায় ঢেকে আছে। স্টেশন মাস্টারের কার্যালয় তালাবদ্ধ।

নলডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের কর্মচারী শাহীন মিয়া বলেন, টিকিট বিক্রির লোক নেই। বিনা টিকিটে ভ্রমণ করে জরিমানাসহ ভাড়া দিতে হচ্ছে। নলডাঙ্গা থেকে কুপতলা স্টেশনে গিয়ে দেখা গেল একই অবস্থা। এখানে আগে থেকেই লাইন একটি। প্ল্যাটফর্ম নেই। মাস্টারের কার্যালয় বন্ধ। সেখানে কিছু যাত্রী আড্ডা দিচ্ছেন।

লালমনিরহাটের বিভাগীয় ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট (ডিটিএস) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওই সব স্টেশনে অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু আছে। বিভিন্ন সময়ে মামলার কারণে নিয়োগ-প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। খুব দ্রুত নিয়োগ-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।