October 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ত্রিশূল নিয়েই বিমানে রাধে মা !

ডেস্ক প্রতিবেদন : যৌতুকের দাবিতে পুত্রবধূকে নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত কথিত ধর্ম গুরু রাধে মা রীতিমতো ত্রিশূল নিয়ে উড়োজাহাজে উঠে পড়লেন এবার। তার এমন আচরণ অন্যান্য যাত্রীদের মাঝে মহাআতঙ্কের সৃষ্টি করে।

সম্প্রতি ভারতের ঔরঙ্গাবাদ থেকে মুম্বাই যাবার পথে এক ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটান তিনি। যাত্রীদের তীব্র আপত্তির মুখেও তিনি ধাতব ত্রিশূলটি নিয়ে প্লেনের ভেতরে আরোহন করেন। উড়োজাহাজ নিরাপত্তার বিধি মোতাবেক এ ধরনের কোনো বস্তু নিয়ে ভ্রমণ নিষিদ্ধ।

প্রশ্ন ওঠে যে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ কীভাবে রাধে মাকে ত্রিশূল নিয়ে ফ্লাইটে উঠতে দিল?

যাত্রীদের এ ধরনের অভিযোগের জবাবে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট বিএল জাট্ বলেন, হ্যাঁ, এটা সত্য। বিষয়টি যাচাই করেই রাধে মাকে ত্রিশূল নিয়ে যেতে দেওয়া হয়েছে। ওই ত্রিশূলটিতে ধার ছিল না। তাই এতে কোনো নিয়ম ভঙ্গ হয়নি।

সংশ্লিস্ট প্রতিষ্ঠান জেট এয়ারওয়েজের কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তারাও দায়িত্ব এড়িয়ে পরিষ্কার বলে দেয়, সুরক্ষার দিকটি দেখার দায়িত্ব সিআইএসএফের। এতে আমাদের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই।

কিন্তু তারা কেন বিষয়টি সিআইএসএফের নজরে আনেনি- এ বিষয়ে জেট এয়ারওয়েজের ব্যাখ্যা জানা যায়নি।

মঙ্গলবার নবভারত টাইমস জানায়, বিতর্কিত এ ঘটনায় ওই ফ্লাইটের সাধারণ যাত্রীরা সিআইএসএফের বিরুদ্ধে অন্যায় পক্ষপাতের অভিযোগ এনেছেন। তারা বলেন, সাধারণ যাত্রীওদের তো সঙ্গে করে একটি নেইলকাটার নিয়েও প্লেনে উঠতে দেওয়া হয় না।

এক ব্যবসায়ী যাত্রীর প্রশ্ন- রাধে মাকে ত্রিশূল নিয়ে যাবার অনুমতি দিয়ে অন্য যাত্রীদের জীবনকে কেন বিপদের মুখে ফেলা হলো?

রাধে মায়ের বিরুদ্ধে অশ্লীলতা, ধর্মের আড়ালে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির অভিযোগ রয়েছে। ২০০৫ সালের জুলাইয়ে রাধে মা, তার স্বামী নকুল গুপ্তাসহ পরিবারের আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়। এতে বলা হয়, পুত্রবধূর ওপর যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করেছেন তারা।

অনুসারীদের মতে রাধে মা শিশুকাল থেকেই আধ্যাত্মিকতায় ধাবিত হন। তবে যেখানে তিনি বেড়ে উঠেছেন, সেই দোরাংগালা গ্রামের লোকজন জানান, শিশুকালে তার মধ্যে কোনো ধরনের ধর্মানুরাগ বা আধ্যাত্মিকতা দেখা দেয়নি।

এদিকে, পাঞ্জাবের গুরুদাসপুরে জন্ম নেওয়া এবং বর্তমানে মহারাষ্ট্রের মুম্বাই নগরীর বরিভালির বাসিন্দা সুখভিন্দর কাউর ওরফে রাধে মায়ের মুখপাত্র সুজিত গুপ্তা পুরো বিষয়টিই অস্বীকার করেছেন।