December 6, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

অপমানিত হয়ে এনামুল-সোহাগের মাঠ ত্যাগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিদেশি কোচদের হাতে ক্রিকেটারদের অপমান, অপদস্থ হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন নয়। গত কয়েক বছর অবশ্য এ ধরনের ঘটনা সেভাবে দেখা যায়নি দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে।

বৃহস্পতিবার বিসিবির হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের (এইচপি) কোচিং ডিরেক্টর পল টেরির হাতে এক প্রকার অপমানিত হয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ক্রিকেটার সোহাগ গাজী ও এনামুল হক জুনিয়রকে।

জাতীয় দল, এইচপি ইউনিট, সম্প্রতি গঠিত পনি (প্লেয়ারস অব ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট) স্কোয়াডের বাইরে থাকা এই দুই ক্রিকেটার এদিন অশ্রুসজল চোখেই মিরপুর ত্যাগ করেছেন। নেটে বল করতে দেয়া হয়নি তাদের। এবং তাদের হাত থেকে বল কেড়ে নেয়া হয়।

ক্রিকেটের অফ সিজন চলছে। নতুন মৌসুমের আগে নিজেদের ফিট রাখার চেষ্টায় অনেক ক্রিকেটারই প্রতিদিন মিরপুরে এসে জিম, রানিং, কিছুটা ব্যাটিং, বোলিং অনুশীলন করছেন। অফ স্পিনার সোহাগ গাজী, বাঁহাতি স্পিনার এনামুলও তেমন মনোবৃত্তি নিয়েই বৃহস্পতিবার মিরপুর এসেছিলেন। বিসিবি একাডেমি মাঠে তখন চলছিল পনি গ্রুপে থাকা ক্রিকেটারদের অনুশীলন। নেটে ব্যাটিং করছিলেন মিঠুন আলী, নাঈম ইসলাম, রবিউল ইসলাম, আল-আমিন হোসেন ও আরাফাত সানিরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সোহাগ-এনামুল পনি’র নেটে বল করতে চেয়েছিলেন। তখন নেটের দায়িত্বে থাকা কোচ সরোয়ার ইমরান তাদের বোলিংয়ের সুযোগ দিয়েছিলেন। পরে এইচপির কোচিং ডিরেক্টর পল টেরির নির্দেশে দুই স্পিনারের হাত থেকে বল কেড়ে নিতে হয় সরোয়ার ইমরানকে। নেটের ব্যাটসম্যানরা পনি’র সদস্য। সোহাগ-এনামুল ছিলেন স্কোয়াডের বাইরের।

ঘটনার পর বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ের নায়ক এনামুলের খেদোক্তিটা ছিল এমন, “আমি জানি না কি বলব? হয়তো এটাই কপালে ছিল। এমন অপমানের পর আর কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।”

পরবর্তীতে সরোয়ার ইমরান ওই দুই ক্রিকেটারকে আবারও ডেকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সোহাগরা আর বোলিং করতে রাজি হননি। অভিষেক টেস্টের কোচ সরোয়ার ইমরান তাদের বিষয়টি পেশাদার মনোভাবেই গ্রহণ করতে বলেছেন।

সোহাগ গাজী বলছেন, “ইমরানের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো রাগ নেই। কারণ তাকে যা বলা হয়েছে, তিনি সেটাই করেছেন।”

গত ৫ আগস্ট বিসিবি শুরু করেছে দুই সপ্তাহের পনি প্রোগ্রাম। যেখানে ছয় ক্রিকেটার ছিলেন। সর্বশেষ সপ্তম ক্রিকেটার হিসেবে নাঈম ইসলাম যুক্ত হয়েছেন।

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, পনি’তে বেশি ক্রিকেটার নেয়া হয়নি। কারণ এখানে এত ক্রিকেটার নিতে চায়নি বিসিবি। তাছাড়া কোচরা এইচপির প্রোগ্রামও চালাচ্ছে। পড়ন্ত বিকেলে এইচপির কোচিং ডিরেক্টর পল টেরিও জানিয়েছেন, পনি’তে কম সংখ্যক ক্রিকেটারই তিনি দেখতে চান। তিনি বলেন, “আমি মনে করি না, বেশি সংখ্যা কোনো সময়ই ভালো কিছুকে বোঝায় না।”