October 24, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

আপাতত গেজেটেড হচ্ছেন না প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বৃদ্ধিসহ নানা সুযোগ সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দিলেও আপাতত তা কার্যকর হচ্ছে না।

সম্প্রতী প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (বিদ্যালয়-২) জাজরীন নাহার স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এই ঘোষণা আপতত স্থগিত করার কথা বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৯ মার্চ ২০১৪ তারিখের ২০১৩-১১২ নং আদেশমূলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১১তম ( ৬৪০০-১৪২৫৫/-) ও ১২তম (৫৯০০-১৩১২৫/-) গ্রেডভুক্ত দ্বিতীয় শ্রেণির ‘প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত’ ও ‘প্রশিক্ষণবিহীন’ প্রধান শিক্ষকদের আপাতত নন-গেজেটেড পদমর্যাদার বিবেচনায় তাদের বেতন নির্ধারণ, বেতনভাতা পরিশোধসহ প্রচলিত পদ্ধতিতেই বেতন উত্তোলনের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক তা কার্যকরের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসকে অবিলম্বে নির্দেশনা প্রদান করা হলো।’

গত দেড় বছর সারা দেশে ৯ মার্চ ২০১৪ তারিখের ২০১৩-১১২ নং স্মারক আদেশটি নিয়ে মারাত্মক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ওই নির্দেশনা নিয়ে কোনো শিক্ষক বেতনভাতা উত্তোলন করতে পারেননি। এ নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসে সারা দেশের প্রধান শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

এই স্মারক নির্দেশনায় শিক্ষকদের বেতনভাতা উত্তোলনের সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে। তবে প্রধান শিক্ষকদের মূল দাবি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরা দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা এবং জাতীয় বেতন স্কেলের গ্রেড-১১ এবং প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকেরা একই মর্যাদা ও বেতন স্কেলের গ্রেড-১২-এর সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল।

এ ব্যাপারে  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ আ. আউয়াল তালুকদার ও মহাসম্পাদক সালেহা আখতার বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটছে। এত দিন শিক্ষকেরা বেতনভাতাও উত্তোলন করতে পারছিলেন না। এ নির্দেশনায় বেতনভাতা উত্তোলনের সুযোগ পেলেও তাদের মূল দাবি এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশ শিক্ষকরা।