June 18, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বাড্ডায় গুলিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর বাড্ডায় বাড্ডায় যুবলীগ-স্বেচ্ছাসেবক লীগের গোলাগুলিতে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে তাৎক্ষণিকভাবে ২ জনের মৃত্যু হয়।  শুক্রবার সকালে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গুলিতে আহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান গামা। গামা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বাড্ডা থানার ওসি আব্দুল জলিল  এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আদর্শনগর পানির পাম্পের কাছে সরকার সমর্থক কয়েকজনের উপর গুলি চালানো হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শামসু মোল্লা (৫৩) ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা মানিক (৪৫) রাতেই মারা যান। এসময় গামা ও স্থানীয় যুগলীগ নেতা আব্দুস সালাম গুলিবিদ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ সকালে চিকিবৎসাধীন অবস্থায় গামার মৃত্যু হয়।  গুলিবিদ্ধ আব্দুস সালাম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে কমার্স কলেজের কাছে ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যালয়ের কাছে ওই পানির পাম্প ঘরের সামনে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা নিয়মিত আড্ডা দেন। গতকাল আড্ডারত অবস্থায় তাদের ওপর হামলা করা হয়।

ওসি আব্দুল জলিল জানান, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যাপক প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হয়েছে। ওই সব প্রোগ্রামে বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগ বড় ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেই প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি আরো জানান, দুর্বৃত্তদের ছোঁড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধদের প্রথমে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালে শামসু মোল্লা ও মানিক নামের দুজন মারা যান।

গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার রফিকুল ইসলাম জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে কমার্স কলেজের কাছে দুর্বৃত্তরা এই হামলা চালায়। খবর শুনেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট শেষে লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য দুইজনের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন,আধিপত্য জাহির করতে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হতে পারে। অপর একটি সূত্র জানায়, বাড্ডা এলাকার গার্মেন্ট ঝুট ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ করতেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা বাউল সুমন। তার মৃত্যুর পর গামা ওই এলাকার ঝুট ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। পাশাপাশি কোরবানির পশুহাটের ইজারা নিয়েও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

ঢাকা মহাগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম বিভাগের ডিসি মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, গুলিবিদ্ধরা পানির ট্যাংকের পাশে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন অস্ত্রধারী এসে তাদের ল্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে চারজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে শামসুর রহমান মোল্লা ও মানিককে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গামা ও আবদুস সালাম নামে আরো দুইজন আহত হন। তাদের মধ্যে আবদুস সালামকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে গিয়ে ডিএমপির এডিশনাল কমিশনার মারুফ হাসান সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে এখনই বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এলাকায় অধিপত্য বিস্তার নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তিনি বলেন, জড়িতদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।