September 18, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বৃষ্টি বিকেলে রবিরাগের ‘বর্ষামঙ্গল’

বিনোদন প্রতিবেদক : কয়েকদিন ধরে খাঁ খাঁ রোদ্দুর। মেঘ-বৃষ্টির কোনও আলামত ছিল না সুনীল আকাশে। অথচ সবার চোখ কপালে তুলে রোদ ভেঙে শুক্রবার বিকেলে এক পসলা বৃষ্টি নেমে এলো তপ্ত শহরে। এই মধুর বৃষ্টির ছিটে-ফোটা গায়ে মেখেই হাজির হলেন অগুনতি দর্শক-শ্রোতা। যাদের প্রত্যেকেই রবীন্দ্রপ্রেমী এবং বৃষ্টিবান্ধবও বটে। তা না হলে ‘রবিরাগ’ আয়োজিত ‘বর্ষামঙ্গল’ অনুষ্ঠানে এত মানুষ ছুটে আসবেন কেন?

অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন রবিরাগে’র উদ্যোগে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একগুচ্ছ বর্ষার গান নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল অনবদ্য নাচ আর গানের অনুষ্ঠান ‘বর্ষামঙ্গল’। শওকত ওসমান মিলনায়তনে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ অনুষ্ঠানটি শুরুর আগেই বৃষ্টি থেমে যায়। তবে অনুষ্ঠানটি শুরুর পর রবিঠাকুরের বর্ষাগান আর রাবিরাগ সদস্যদের অনবদ্য পরিবেশনায় বৃষ্টি যেন শুরু হলো আবার। নাচে-গানে-ঝংকারে শ্রোতা-দর্শক মনে সেই বৃষ্টি ঝরলো শেষ অব্দি।

‘বর্ষামঙ্গল’ আয়োজনে যত্নের পরশে আগত দর্শকেরা ছিলেন সন্তুষ্ট। অভ্যর্থনাকারীর হাত থেকে আয়োজনের বিস্তারিত পৌঁছে দেওয়া হলো সবার হাতে হাতে। ততক্ষণে গানের পরে গান গেয়েই চলেছেন শিল্পীরা। থামছিল না বাদ্যযন্ত্র। এ যেন অনবরত বর্ষণেরই অনুকরণ। গানে গানে আহ্বান ছিল—‘আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে’।

অনুষ্ঠানে রবিরাগ সদস্যদের সমবেত পরিবেশনাই ছিল বেশি। মঞ্চে উপবিষ্ট শিল্পীদের মাঝখানে বসে আপন মনে হারমোনিয়াম বাজাচ্ছিলেন রবিরাগ পরিচালক সাদি মহম্মদ। এই আয়োজনে গান পরিবেশন করে মুগ্ধ করেছেন রবিরাগ সভাপতি আমিনা আহমেদসহ গোলাম হায়দার, সন্ধ্যা ভট্টাচার্য, রমা, রঞ্জু, পারভিন ইয়াসমীন, সুশান্ত সরকার, নাজনীন, মাখন, এণাক্ষীসহ আরও অনেকে। মোট ২৮টি গান পরিবেশন করা হয় অনুষ্ঠানে। এর ফাঁকে সংগঠনটির শিল্পীরা ‘খরবায়ু বয়’,  ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী’, ‘মরণ রে, তুঁহুঁ মম শ্যামসমান’ এবং ‘পাগলা হাওয়ার’ গানের সঙ্গে দ্বৈত ও সমবেত নাচ করেছেন।