September 29, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

১৯৭১,গনহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও যাদুঘর

এটি খুলনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।
লোকেশন:৩৩৪,শের-ই-বাংলা রোড,ময়লাপোতা,খুলনা।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকহানাদার বাহিনী,তাদের দোসর রাজাকার ও আলবদর বাহিনী এদেশের নিরীহ মানুষের উপর যে নারকীয় নির্যাতন চালিয়েছিল তার চমৎকার একটি প্রামান্য দলিল ও আর্কাইভ হিসেবে গড়ে উঠেছে এটি।
১৯৭১ সালে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস চমৎকারভাবে এখানে তুলে ধরা হয়েছে।মূলত সে সময় যে গনহত্যা ও নির্যাতন এদেশের মানুষের উপর করা হয়েছিল তার কিছু দলিল হিসেবে দূর্লভ কিছু ছবি,পেপার কাটিং,মুক্তিযুদ্ধ ও গনহত্যার উপর বিভিন্ন প্রখ্যাত লেখকদের লেখা বই,দলিল ইত্যাদি চমৎকারভাবে সংরক্ষিত হয়েছে।
ইতিহাস ভুলতে যাওয়া এবং বিকৃত ইতিহাস প্রচারে সচেষ্ট একটি মহলের অপপ্রচারে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌছে যাচ্ছেনা।তারা সঠিক ইতিহাস জানতে না পারায় মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের মাঝে ধারণ করতে পারছেনা।১৯৭১ ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তাদের মাঝে তেমন আবেগ তৈরি হয়নি।১৯৭৫ সালের পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দীর্ঘদিন বিকৃত করার অপপ্রয়াসের ফল আজকের এই ৭১ সম্পর্কে আবেগহীন তরুণ প্রজন্মের একাংশ।তাদের সঠিক ইতিহাস জানার সুযোগ তৈরি করে দেয়ার জন্য এ মহৎ উদ্যোগ।
এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠেছে।আর অসাধারণ এ উদ্যোগটি নিয়ে এ আর্কাইভ ও যাদুঘরটি প্রগাঢ় মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে তিল তিল করে গড়ে তুলছেন আমাদের প্রিয় শ্রদ্ধেয় ডা:বাহারুল আলম স্যার(সভাপতি,খুলনা বিএমএ)।
স্যারকে এ ব্যাপারে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন ডা:মেহেদী নেওয়াজ ভাই(মহাসচিব,খুলনা বিএমএ),ডা:ডালিয়া আক্তার,ডা:আবু সুফিয়ান প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।এছাড়া জনাব মুনতাসির মামুন স্যার সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছেন।
বর্তমানে এটি একটি ভাড়া বাড়ীতে অবস্থিত হলেও ডা:বাহারুল আলম স্যারের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা একটি পরিত্যাক্ত বাড়ী এ আর্কাইভ ও যাদুঘরটির জন্য বরাদ্ধ দিয়েছেন।আশা করছি খুব শীঘ্রই এ বাড়ীটি বরাদ্ধ পাওয়া যাবে এবং সেখানে আরো ব্যাপক ও পরিকল্পিত ভাবে এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠবে।
খুলনায় যারা থাকেন বা কোন কাজে খুলনায় যান তারা অবশ্যই এখানে একবার ঘুরে আসবেন।আপনাদের হৃদয় অবশ্যই ছুয়ে যাবে।ব্যক্তি উদ্যোগে এরকম একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে সেটা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।আপনারা যে কেউ চাইলেই এখানে সদস্য হতে পারবেন।এক কপি ছবি নিয়ে মাসিক ১০০ টাকা সদস্য ফি দিয়ে আপনারা যে কেউ আর্কাইভের সদস্য হতে পারবেন।

একজন চিকিৎসক হিসেবে এ প্রতিষ্ঠানটির জন্য আমি গর্ববোধ করি,একজন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত উদ্যোগের ফসল এটি।স্যার প্রমাণ করেছেন একজন চিকিৎসক হিসেবে চিকিৎসা ছাড়াও সমাজ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে অনেক কিছুই করা যায়।সবাই যদি এরকম একটু একটু করে নিজে থেকে এগিয়ে এসে কিছু করি তবে এ দেশটা অবশ্যই একদিন সোনার বাংলা হয়ে উঠবে।