October 23, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

মুক্তির নায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক : সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সংবিধান বিশেজ্ঞ ব্যারিস্টার এম আমির-উল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশকে পাকিস্তানের শাসন-শোষণের হাত থেকে মুক্ত (স্বাধীন) করার জন্য প্রয়োজন ছিল একজন নায়কের। সেই মহান নায়ক ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

জাতীয় যাদুঘরের কর্তৃপক্ষের উদ্যেগে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প’ কথোপকথন অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর স্মুতিচারণ করার সময় তিনি এ কথা বলেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন দু’জন। তারা হলেন আইনজীবী ও সংবিধান বিশেজ্ঞ বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ব্যারিস্টার এম আমির-উল ইসলাম এবং বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব মসিউর রহমান।

ব্যারিস্টার এম আমির-উল ইসলাম বলেন, আমি ব্যারিস্টারি শেষ করে ১৯৬৩ সালে দেশে ফিরে আসি। তখন বলা হচ্ছিল বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য একজন নেতাকে কথা বলতে হবে। আর ওই নেতাই ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার স্বাধীনতার ডাক দেয়ার জন্য নেতৃত্বের ভার গ্রহণ করার আহ্বান জানানোর সময় সঙ্গে আমিও ছিলাম।

ব্যারিস্টার আমির বলেন, আমি দেখেছি। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনের পরে রুটি রুজির (ক্ষমতার) ভাগাভাগি নিয়ে দরকষাকষি ছিল। বঙ্গবন্ধু ছিলেন এসব বির্তকের উর্ধ্বে।

বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব মসিউর রহমান বলেন, জাতির জনক শেখ মুজিব নেতা এবং সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে কোন পার্থক্য করতেন না। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নৌকায় চড়ে প্রচার প্রচারণা করতে গেলে তাকে একজন সরকারি কর্মকর্তা বাধা দেয়। ওই সরকারি কর্মকর্তার নাম কফিল উদ্দিন। পরে তাকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে এনে সরকারি চাকরি দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। ওই কফিল সচিব হয়েছিলেন।

মসিউর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অন্য এক কর্মচারীকে অনেক শ্রদ্ধা করতেন। তার নাম জহুর আহম্মেদ। তিনি জাতির জনকের সাক্ষাৎ পেলে অনেক কথা বলতেন। শেখ মুজিবুর রহমান এই জহুর আহম্মেদ সম্পর্কে বলেছিলেন তোমরা এমন কর্মচারীদেরকে শ্রদ্ধা করবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক গুরু হয়েও তিনি তাঁর শিষ্যের কথা গুরুত্ব সহকারে শুনতেন। তিনি গুরু শিষ্যের মধ্যে কোন পার্থক্য তৈরি করতেন না। বঙ্গবন্ধু তার অধীনে সর্বকনিষ্ঠ নেতা কর্মীদের পরামর্শও সমান গুরুত্ব দিয়ে শুনতেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপির সঞ্চালনায় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে জাতির পিতার ঘনিষ্ঠ সহচর ও তার একান্ত সচিব মসিউর রহমান গল্প ছলে কথোপকথন করেন। এ সময় তারা বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন স্মৃতি স্মরণ করেন।