October 7, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় একখণ্ড মুজিব

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের মহানায়ক জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শুরু হওয়া আলোকচিত্র যেন একখণ্ড মুজিব। পাশপাশি বঙ্গবন্ধুময় বাংলাদেশের ইতিহাসের একাংশের প্রতিচ্ছবি। আগত বিভিন্ন পেশা ও বয়সের মানুষ বঙ্গবন্ধুকে যেন আবার নতুন করে উপলব্ধি ও অনুভবের সুযোগ পাচ্ছেন এই চিত্রপ্রদর্শনীতে।

এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইতালি প্রবাসী কন্যা শেখ হাসিনা কিংবা সহধর্মীনিকে লেখা চিঠির মাধ্যমে যেমন পারিবারিক আবহ ফুটে উঠেছে একইভাবে মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরের বিভিন্ন দুর্লভ ছবির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবনের উপর আলোকপাত করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘চিত্রগাঁথায় শোকগাথা’ শীর্ষক ছবির প্রদর্শনী শুক্রবার শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। বঙ্গবন্ধুর ঘটনাবহুল জীবনের ১৩১টি আলোকচিত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে প্রদর্শনী। দুর্লভ এই ছবিগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে ন্যাশনাল আর্কাইভ অব বাংলাদেশ, সেন্টার ফর রিচার্স অ্যান্ড ইনফরমেশন, লিসা মওলা, ইয়াসিন কবির জয় এবং দৃকের সংগ্রহে থাকা রশিদ তালুকদারের তোলা ছবি থেকে।

শনিবার ছিল এ প্রদর্শনীর তৃতীয় দিন। সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনীতে দুপুরে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মানুষের ব্যাপক সমাগম দেখা গেছে। এদের বেশিরভাগই বঙ্গবন্ধুর ছবিগুলোর সাথে সেলফি তুলেছেন। কেউ কেউ মোবাইলে ও ক্যামেরায় বন্দী করে নিয়ে গেছেন। আর বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বিভিন্ন মন্তব্য লিখেছেন বিশাল বিশাল ব্যানারে।

ওই প্রদশর্নী ঘুরে দেখা গেছে, বিশেষ বিশেষ কিছু ছবি অনেক আগ্রহ নিয়ে দেখছেন সবাই। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হল ১৯৬৯ সালের ১৩ জুন ইতালি প্রবাসী মেয়ে শেখ হাসিনাকে লেখা একটি চিঠি। হাসিনা কে ‘জাদুমনি’ সম্বোধন করে লেখাটি শেষ হয়েছে ইতি তোমার আব্বী দিয়ে।

বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে লেখা চিঠিটির কোথাও কোনো কাটাকাটি নেই দেখে অনেকে প্রশংসাও করছিলেন। রাজধানীর মীরপুর থেকে আগত রফিকুল বারী পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর এই চিঠিটি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ছিলেন। পড়া শেষ হলে সবাই সেলফি তোলা শুরু করেন। এসময় কথা হয় তার সাথে।

রফিকুল বারী বলেন, বঙ্গবন্ধু একটানে লিখতেন। কিন্তু লেখার মধ্যে কোনো কাটাকুটি নেই। ভাষাও অসাধারণ। সত্যি তাকে আমরা নতুনভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ পাচ্ছি। এছাড়া মায়ের সাথে বঙ্গবন্ধু, ভাবছেন বঙ্গবন্ধু, বক্তৃতা দেওয়ার সময় বিশেষ ভঙ্গিতে, ১৯৫৯ সালে ১৬ এপ্রিল ঢাকা সেন্ট্রাল জেল থেকে স্ত্রীকে লেখা চিঠি, স্কুলে শিশুদের সাথে জাতির পিতার হাস্যোজ্জ্বল এবং বঙ্গবন্ধুর কোলে শিশু জয় ও পুতুলের ছবিগুলো সবার দৃষ্টি আকৃষ্ট করেছে।