September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

গর্ভে গুলিবিদ্ধ নবজাতক মা-বাবার বুকে

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাগুরায় গুলিবিদ্ধ অন্তঃস্বত্ত্বা গৃহবধূর শিশু সন্তান সুরাইয়াকে মা-বাবার বুকে তুলে দেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুর পৌনে ১টার দিকে তাকে এনআইসিউ থেকে তিনতলায় ৪৮ নাম্বার কেবিনে মা নাজমা বেগম ও বাবা বাচ্চু ভূঁইয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

হস্তান্তর করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দশ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল। এ দলে ছিলেন, এনআইসিউয়ের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. আবিদ হোসাইন মোল্লা, শিশু সার্জারির বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর আশরাফুল হক কাজল, হাসপাতাল পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান মিজান, সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল গফুর ও উপ-পরিচালক ডা. নাজমুন্নেসা।

প্রফেসর আশরাফুল হক কাজল বলেন, “শিশুটি এখন মোটামুটি সুস্থ। অভিভাবক চাইলে দু’তিনদিনের মধ্যে শিশুটিকে বাড়িতে যেতে পারবেন।”

ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, “শিশুটি শারীরিকভাবে পূর্ণাঙ্গ সুস্থ। তবে মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় গুলির ঘটনায় তার চোখের যে সমস্যা রয়েছে তা সারতে আরো কিছু সময় নেবে।”

বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টায় শিশুটি এখন পূর্ণাঙ্গভাবে সুস্থ। তাকে যে তার মা-বাবার কাছে আমরা হস্তান্তর করতে পেরেছি, এটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের একটি বিষয়।”

তিনি আরো বলেন, “হাসপাতাল পরিচালক হিসেবে আমি চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানাই। এ শিশুটি ছিল দেশের আলোচিত একটি ঘটনার অংশ। সুতরাং তাকে সুস্থ করে তোলায় এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরো বাড়বে। তারা জানবে, ঢাকা মেডিকেলে এ ধরনের চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায়।”

এদিকে নাজমা বেগম ও বাচ্চু ভূঁইয়া শিশু সুরাইয়াকে বুকে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা।

নিউজবাংলাদেশকে বাচ্চু বলেন, “আমরা যে সুরাইয়াকে আমাদের বুকে ফিরে পেয়েছি এটিই আমাদের বড় পাওয়া। আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া। যে সব চিকিৎসক সুরাইয়াকে আমাদের বুকে ফিরিয়ে দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করবো। এছাড়া তো আমাদের দেবার মতো আর কিছুই নেই।”

তিনি আরো বলেন, “আমার খুব ইচ্ছে, সুরাইয়াকে বড় চিকিৎসক বানাবো। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।”