June 25, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

চট্টগ্রামে ৬৩ ভাগ জনশক্তি রপ্তানি কমেছে

ডেস্ক প্রতিবেদন : শ্রমিকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না থাকা আর রাষ্ট্রীয় উদাসীনতার কারণে গেল চার বছরে শুধু চট্টগ্রাম জেলা থেকে জনশক্তি রপ্তানি ৬৩ শতাংশের বেশি কমেছে। ২০১১ সালে যেখানে জনশক্তি রপ্তানি হয়েছিল ৭৩ হাজার ৩২৩ জন সেখানে ২০১৪ সালে জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে মাত্র ২৭ হাজার ৭২৪ জন। অর্থাৎ গেল চার বছরে চট্টগ্রাম জেলা থেকে প্রায় ৬৩ শতাংশ জনশক্তি রপ্তানি কমেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১১ সালের পর থেকে প্রতিবছরই বিশ্ববাজারে সংকুচিত হয়ে আসছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার। এর প্রভাব সারাদেশের মতো চট্টগ্রামের উপরও পড়ছে। দক্ষ শ্রমিক রপ্তানি এবং কুটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমেই হারানো শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার করা সম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা।

জেলা জনশক্তি রপ্তানি অফিসের তথ্য মতে, ২০১১ সালে চট্টগ্রাম জেলা থেকে জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে ৭৩ হাজার ৪৭৬ জন। ২০১২ সালে রপ্তানি হয়েছে ৭০ হাজার ৩৭৭ জন। তার পরের বছর ২০১৩ সালে তা অর্ধেকেরও বেশি কমে দাঁড়ায় ২৬ হাজার ২২৬ জনে। তবে ২০১৪ সালে সামান্য বেড়ে তা দাঁড়ায় ২৭ হাজার ৭২৪ জনে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ৩৩২ জন শ্রমিক।

সম্প্রতি চট্টগ্রামে এক মতবিনিময় সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণেই বাংলাদেশের শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে আস্থা পাচ্ছে না বিদেশিরা। বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে নানান অপকর্ম করে বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট করছে মায়ানমারের প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের জন্য একদিকে যেমন বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে বাংলাদেশিরা বিদেশে তাদের জায়গা হারাচ্ছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি চট্টগ্রামের উপর পড়ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত আর ওমানের দেশের মোট জনশক্তির ৬০ ভাগই ছিল চট্টগ্রামের লোক। বর্তমানে সে দৃশ্য পাল্টে যাচ্ছে।

হারানো শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারসহ নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশে নতুন করে আরও ৩০টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক তৈরি, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে শিডিউল ব্যাংক করাসহ সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সংশপ্তক এর ‘নিরাপদ অভিবাসন’ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে আসার এর প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের শ্রমবাজারে। গত ৫ বছর ধরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা এবং মিরসরাই উপজেলায় নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, হাজার শ্রমিক দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সুযোগ পাচ্ছে না। অনেকে অবৈধভাবে সাগর পথে মালয়শিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের মধ্যে কেউ প্রাণ দিয়েছে আবার কেউ কেউ জেল খেটে দীর্ঘ কষ্টের পর সর্বশান্ত হয়ে দেশে ফিরেছে।

এদিকে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্যুইটি এজেন্সিজ’র  (বায়রা) সাধারণ সম্পাদক মনসুর আহমেদ কালাম জানান, প্রতি বছরই সংকুচিত হয়ে আসছে শ্রমবাজার । দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, লিবিয়া, দুবাই, মালয়শিয়াসহ বেশ কয়েকটি বড় শ্রমবাজার । এছাড়াও ওমান এবং বাহারাইনে স্বল্প পরিসরে চালু থাকলেও আগের তুলনায় শ্রমিক আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে এসব দেশে আগে বাংলাদেশের মোট জনশক্তির  ৮০ শতাংশই রপ্তানি হতো। এসব দেশে   ২০১০ সালে মোট ১ কোটির মতো শ্রমিক থাকলেও বর্তমানে সেখানে ৮০ লাখের মতো শ্রমিক রয়েছে। প্রতি বছরই বাংলাদেশী শ্রমিকরা মেয়াদ শেষে চলে আসায় প্রবাসীর সংখ্যা কমছে।

প্রতি বছরই বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শ্রমবাজার কমে আসার কারণ সম্পর্কে বায়রা’র সভাপতি মোহাম্মাদ আবুল বাশার জানান, শ্রমিকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না থাকা আর রাষ্ট্রীয় উদাসীনতার কারণে প্রতি বছরই সংকোচিত হয়ে আসছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার। এছাড়াও বিদেশে আমাদের কিছু শ্রমিক অবৈধ প্রবেশ এবং অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। প্রশিক্ষিত জনশক্তি রপ্তানির পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে হারানো শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার সম্ভব বলে জানান তিনি।