September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

নিয়মের নেই বালাই, চলছে খোঁড়াখুড়ি

বিশেষ সংবাদদাতা : সিটি করপোরেশনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বরাবরের ন্যায় এবছরও বর্ষার শুরুতেই  রাজধানীতে রাস্তা খোঁড়ার কাজ শুরু করেছে পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিস্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা)। এতে করে যানবাহন চলাচলের সমস্যার পাশাপাশি বেড়েছে জনসাধারণের দুর্ভোগ।

ঢাকার দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, নিয়ম অনুযায়ী মে মাসের পর থেকে অক্টোবরের আগ পর্যন্ত কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করা যাবে না।

কিন্তু এ নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ওয়াসা আগের মতোই এ বছরও রাজধানীর কাঁঠালবাগান, পূর্ব রাজাবাজার, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

কাঁঠালবাগান এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টির মধ্যে নির্মাণ ও মেরামতের কাজ করায় বেশিরভাগ রাস্তাই যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কোনও কোনও রাস্তা দিয়ে মানুষও চলাচল করতে পারছে না।

বারবার ওয়াসার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ করা সত্ত্বেও সরকারি এ প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমেই তাদের কাজ করার জন্য বেছে নেয়। ওয়াসার দাবি, তারা এই সময়টা এড়ানোর চেষ্টা করে। তবে নানা কারণে তা হয়ে ওঠে না।

এছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ওয়াসা তাদের খনন কাজের সময় যে গর্তগুলো করে কাজ শেষে সেগুলো ভরাটের বিষয়ে উদাসীন তারা। ফলে যানবাহন ও পথচারীরা যখন ওইসব রাস্তা ব্যবহার করে তখন নানা ভোগান্তির শিকার হয়।

কাঁঠালবাগানের বাসিন্দা তানভীর আলম বলেন, ‘অবশ্যই আমরা উন্নয়ন চাই। তবে নিয়ম-নীতি মেনে কাজ করা উচিত ওয়াসার। আমার মনে হয়, বর্ষার সময়ে তাদের খোঁড়াখুঁড়ির কাজ বন্ধ রাখা উচিত।’

একই এলাকার অপর বাসিন্দা মাহফুজা বেগম জানান, দুই মাস আগে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ পান্থপথ ও কাঁঠালবাগান এলাকায় পয়নিষ্কাশন লাইন বসানোর কাজ শেষ করেছে। এর কিছুদিন পরেই তারা আবার সেখানে নতুন পানির লাইন বসানোর কাজ শুরু করেছে।

পূর্ব রাজাবাজারের বাসিন্দা রাজু দাস জানান, তাদের এলাকায় দুই মাস আগে পয়নিষ্কাশন লাইন বসানোর কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু এখনও তারা সেটি শেষ করতে পারেনি। ফলে ওই রাস্তাগুলো এলাকাবাসীর দুর্ভোগের সীমা বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান বলেন, ‘আমরা সবসময় চেষ্টা করি বর্ষা মৌসুমে কাজ না করতে। কিন্তু অনেক সময় বৈদেশিক সহায়তা পাওয়ায় দেরি হওয়া ও অন্যান্য সমস্যার কারণে প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয়ে যায়। আর এ কারণে না চাইলেও বর্ষায় কাজ করতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘চাইলে আমরা বর্ষায় আমাদের কাজ বন্ধ করে দিতে পারি তবে এতে অবস্থার খুব একটা উন্নতি হবে বলে মনে হয় না। আমরা জনগণের দ্বিগুণ হয়রানি বন্ধের লক্ষ্যেই বর্ষায়ও কাজ করি।’

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, অন্যান্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় না করেই অসেচেতনভাবেই কাজ করে ওয়াসা।

এছাড়া ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো), বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) ও দুই সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধেও বর্ষার শুরুতে তাদের উন্নয়ন কাজ করে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।