October 24, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

মেঘনার ভাঙনরোধে কাজ করছে সেনাবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক : জেলার রামগতি-কমলনগরে মেঘনার ভাঙনরোধে প্রাণান্ত কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রায় চার দশক ধরে ভাঙনের শিকার এ দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। এবার তাদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে রামগতিতে ভাঙনরোধে কাজ শুরু করে সেনাবাহিনী। রামগতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশনের তত্ত্বাবধানে ১৯ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন ভাঙনরোধে বাঁধ নির্মাণ করছে। অস্বাভাবিক জোয়ার, তীব্র ঢেউ ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষায় প্রাণান্তকর চেষ্টা রয়েছে তাদের।

দিন-রাত ৫০-৬০ জন সৈনিক উত্তাল মেঘনার সঙ্গে যেন যুদ্ধ করে চলছে। এ যুদ্ধ শুধু দেশ রক্ষা নয়, রামগতি-কমলনগরসহ এ অঞ্চলের মানুষের ভিটেমাটি রক্ষার লড়াই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সেনাবাহিনী ভাঙনরোধে রামগতির আলেকজান্ডার বাজার সংলগ্ন এক কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করে। পরে সাড়ে তিন কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করে তারা। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে মাত্র পাঁচ মাসে করা হয় এক বছরের কাজ। ছয় লাখ বালুভর্তি জিও ব্যাগ নদীতে ফেলা হয়। এরই মধ্যে কয়েক লাখ টাকার ব্লকও ফেলা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, সেনাবাহিনী নদী ভাঙনরোধে কাজ না করলে চলতি বর্ষা মৌসুমেই আলেকজান্ডার-সোনাপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক, রামগতি উপজেলা পরিষদ ভবন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আ স ম আবদুর রব সরকারি কলেজ, আলেকজান্ডার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, আলিয়া মাদ্রাসা ও আলেকজান্ডার বাজারসহ অসংখ্য স্থাপনা বিলীন হতো।

তারা আরো জানায়, মঘেনা উপকুলীয় বাসিন্দারা শুধু নিঃস্ব হতো না, সরকারের কয়েকশো কোটি টাকার সম্পদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেত।

আলেকজান্ডার বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাহার খন্দকার নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “ভাঙনরোধে সেনাবাহিনী কাজ না করলে ঐতিহ্যবাহী আলেকজান্ডার বাজার থাকতো স্মৃতি হয়ে। ব্যবসায়ীরা এখন স্বস্তিতে রয়েছে।”

রামগতি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন হেলাল নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “সেনাবাহিনীর নিরলস পরিশ্রমে আমরা ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছি। সরকার বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ করলে এ দুই উপজেলার মানুষ রক্ষা পাবে।”

সেনাবাহিনীর ১৯ ইসিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. তানভীর হোসেন পিএসসি নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সেনাবাহিনী দ্রুততার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এসডব্লিউওর পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আব্দুল ওহাবের তত্ত্বাবধানে এ ইউনিটের সৈনিকরা পাঁচ মাসে সাড়ে তিন কিলোমিটার বাঁধের ৫০ ভাগ কাজ শেষ করেছে।”

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “ভাঙনরোধে ৩৭ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হবে। বরাদ্দকৃত অর্থে সাড়ে পাঁচ কিলো মিটার বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। অবশিষ্ট অংশের বরাদ্দ পেতে আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বরাদ্দ এলে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নিয়মানুযায়ী কাজ করা হবে।”

উল্লেখ্য, রামগতি-কমলনগরে নদী ভাঙনরোধে ৩৭ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণে এক হাজার ৩৫০ কোটি টাকার অনুমোদন করেছে একনেক। প্রথম পর্যায়ে ১৯৮ কোটি টাকায় রামগতি-কমলনগরে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনী।

তবে আরো সাড়ে ২৮ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবদুল্লাহ আল মামুন।