October 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

২০১৯ সাল থেকে বাণিজ্যমেলা হবে পূর্বাচলে

জ্যেষ্ঠ্য প্রতিবেদক : ২০১৯ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আর শেরে বাংলা নগরে হচ্ছে না। তার পরিবর্তে রাজধানীর পূর্বাচলে নির্মিতব্য স্থায়ী কাঠামোতেই হবে এ মেলা। আশা করা হচ্ছে ২০১৮ সালের জুনেই শেষ হবে বাণিজ্যমেলার স্থায়ী কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ। বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার নামের কমপ্লেক্সটি নির্মাণে ব্যয় হবে ৭৯৬ কোটি টাকা।

ইতোমধ্যেই মেলার জন্য বরাদ্দকৃত ২০ একর জমির দাম বাবদ ১৩৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। গত ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) এ সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদিত হয়। পূর্বাচলের নিউ টাউন এলাকায় চার নম্বর সেক্টরের ৩১২ নম্বর রোডে ২০ একর জায়গা জুড়ে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার নামের স্থায়ী এ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন টাকা না পাওয়ায় কমপ্লেক্সটি নির্মাণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোকে (ইপিবি) পূর্বাচলের জমি বরাদ্দ দিচ্ছিল না রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। চলতি অর্থবছর বরাদ্দ হওয়ায় প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

এর আগে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরের খালি জায়গায় এটি তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হলেও সময়মতো জমি না পাওয়ায় সে উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

স্থায়ী এই কমপ্লেক্সে থাকবে ৯ বর্গমিটার আকারের ৮০৬টি বুথ সংবলিত ২টি বড় হলরুম, প্রায় দেড় হাজার কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা এবং সম্মেলন কক্ষ, প্রেস সেন্টার, সভাকক্ষ, বাণিজ্য তথ্যকেন্দ্র, অভ্যর্থনা কেন্দ্র, সার্ভিস রুম, সাব-স্টেশন প্রভৃতি।

১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর শেরেবাংলা নগরে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কিন্তু মেলার কোনও স্থায়ী অবকাঠামো না থাকায় প্রতিবছর এ খাতে ব্যাপক অর্থ ব্যয় হয়। এমনকি স্থায়ী অবকাঠামো না থাকায় বাইরের দেশের অংশগ্রহণেও উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া যায় না। এ জন্য সরকার অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে ২০০৮ সালের ২৪ এপ্রিল ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিনিময়পত্র স্বাক্ষর করে। এ প্রকল্পে চীন সরকার ২১০ কোটি টাকা অনুদান দিতে রাজি হয়। ওই সময় জমি পেতে দেরি হওয়ায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ২০১৪ সালের ১৪ আগস্ট রাজউক পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা কেন্দ্র নির্মাণে ২০ একর জমি বরাদ্দ দেয়। শর্ত হিসেবে জমির মূল্য বাবদ প্রদেয় ১৩৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা পরিশোধে ইপিবির সামর্থ না থাকায় বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রকল্পের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মেলার জন্য একটি স্থায়ী কেন্দ্র রয়েছে। এখন বাংলাদেশেও করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে চীনা দূতাবাস রাজউক কর্তৃক বরাদ্দকৃত জমির ওপর প্রস্তাবিত কেন্দ্রের নকশা চূড়ান্ত করেছে, ডিপিপি প্রণয়ন ও জমির চূড়ান্ত বরাদ্দপত্র এবং জমির লে-আউট প্ল্যান ও অন্যান্য বিষয়ে সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে।

ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ বছরে শেরে বাংলা নগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার মাঠ নির্মাণ খাতে ব্যয় হয়েছে ৯০০ কোটি টাকা। অথচ ২৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বাণিজ্যমেলা কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব ছিল। মেলার মাঠ নির্মাণের ব্যয় দিয়ে এ সময়ে তিনটি স্থায়ী কমপ্লেক্স নির্মাণ করা যেত বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান।

এ সময়ে মাঠ নির্মাণের নামে সরকারের ব্যয় হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। বাকিটা গেছে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর পকেট থেকে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, স্থায়ী বাণিজ্যমেলার প্রাসঙ্গিক কাজ শেষে চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট থেকেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কাজ এগিয়ে চলছে। সব ঠিক থাকলে ২০১৮ সালের জুনে কাজ শেষ হবে এবং ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি নতুন কমপ্লেক্সে বাণিজ্যমেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি।