June 23, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ইতিবাচক সাড়া মেলেনি : স্থবির নতুন টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাস্তবায়ন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় বিলম্বিত হচ্ছে নতুন টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাস্তবায়ন। এদিকে ২৪তম বিসিএস ক্যাডারদের মধ্যে ৩০৫ জনকে সিলেকশন গ্রেড প্রদান করে জারি করা প্রজ্ঞাপনকে নতুন পে-স্কেলে সিলেকশন গ্রেড রাখার ইঙ্গিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডসহ এবং দুই সুবিধা ছাড়াই দুটি পৃথক প্রতিবেদন তৈরি করেছে অর্থ-মন্ত্রণালয়। এই সুবিধা দুটি থাকবে কি থাকবে না এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়াতে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে উঠতে দেরি হচ্ছে।

২৪তম ব্যাচে সিলেকশন গ্রেড দেয়ার ব্যাপারে সরকারি কর্মচারী ঐক্য পরিষদের এক নেতা বলেন, এ পদক্ষেপকে আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি। সরকার যেন সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড সুবিধা বহাল রাখে- এটি আমাদের দাবি।

তিনি আরো বলেন, কিন্তু নতুন পে-স্কেলে যদি এই সুবিধা বহাল না রাখে সে ক্ষেত্রে ২৪তম বিসিএস ক্যাডারদের দেয়া সিলেকশন গ্রেড সুবিধা বাতিল হবে। এটি রাখার কোনো সুযোগ থাকছে না। ফলে এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হবে।

এদিকে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল ঠেকাতে শুধু তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাই সোচ্চার নন, বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তারাও রয়েছেন। তারা বলছেন, পদোন্নতির সময় হলেও ঠিক সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি হয় না। এ জন্য পদোন্নতির নির্ধারিত সময় থেকে আর্থিক সুবিধা হিসেবে সিলেকশন গ্রেড দেয়া হয়। আবার চাকরির একটি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টাইম স্কেল দেয়া হয় তাদের।

এদিকে, বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের আগে শিক্ষকরা সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা চাচ্ছেন।

অন্যদিকে শিক্ষকদের মর্যাদা বাড়িয়ে প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এ নিয়ে তারা ধারাবাহিক আন্দোলন করছেন।

সপ্তম বেতন স্কেলে সচিব, সিলেকশন গ্রেডের অধ্যাপক ও মেজর জেনারেল পদের ব্যক্তিদের এক নম্বর গ্রেডে রাখা হলেও এই বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেডের অধ্যাপকদের বেতন আগের তুলনায় তিন ধাপ নেমে গেছে।

এদিকে অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শুধু বেতন দেয়া হবে, ভাতাসহ অন্য সুবিধা দেয়া হবে পর্যায়ক্রমে। এর আগে সপ্তম বেতন কাঠামোও কয়েক ধাপেই বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতাসহ সার্বিক বিষয়ে বরাদ্দ রাখা হয় ২৯ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। এর চেয়ে পাঁচ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ রাখা হয়েছে চলতি অর্থবছরের বাজেটে।