June 17, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের রূপরেখা ‘অসাংবিধানিক’: আইনমন্ত্রী

ডেস্ক প্রতিবেদন : প্রধানমন্ত্রীর অধীনে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের রূপরেখাকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, ‘সংবিধানে যা লেখা আছে, সেটা না বদলিয়ে কেউ যদি বলে এটার বিপরীত কিছু করতে হবে, সেটা গ্রহণযোগ্য যে নয় তা শুধু না, সেটা অসাংবিধানিক।’

শনিবার ঢাকায় বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

বিগত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অর্ধেকেরও বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে ২টি রিট দায়ের করা হয়েছিল। গত বছর রিটগুলো আদালত খারিজ করে দিলেও সম্প্রতি তার পূর্ণাংগ রায় প্রকাশিত হয়েছে।

নির্বাচনী ফর্মুলা সম্পর্কে বিভিন্ন খবরের কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে ২টি ফর্মুলা দিয়েছে।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী হাইকোর্ট প্রথম ফর্মুলায় বলেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হবেন প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা দলগুলো থেকে ভোটের হারের অনুপাতে নতুন ৫০ জন মন্ত্রী নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ওই সরকারের মন্ত্রীসভা গঠন করবেন।

হাইকোর্টের দ্বিতীয় ফর্মুলায় বলা হয়, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল প্রথম ৪ বছর ক্ষমতায় থাকবে। আর সংসদের প্রধান বিরোধী দল সর্বশেষ এক বছর ক্ষমতায় থাকবে।

হাইকোর্ট যে রূপরেখা দিয়েছে সেটিকে সরকার বিবেচনা করতে পারে কিনা- এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আমার মনে হয়না হাইকোর্ট এ ধরনের প্রস্তাব দিতে পারে।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘হাইকোর্টের রায় যদি ডাইরেকটিভ (নির্দেশনামূলক) হয় তাহলে সেটি অসাংবিধানিক। যদি অবসারভেশন (পর্যবেক্ষণ) হয় তাহলে সেটা সেই আলোকেই দেখা হবে।’

বাংলাদেশ সংলাপে অংশ নেয়া বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানও নির্বাচন-কালীন সরকার নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রূপরেখাকে তেমন কোন গুরুত্ব দেননি। তবে রাজনৈতিক দলগুলোকেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

তবে অনুষ্ঠানের আরেকজন প্যানেলিস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম মনে করেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে হাইকোর্ট যদি কোন প্রস্তাব করে তাহলে সেটিও আমলে নেয়া উচিত। সবাই এখন চায় যে নির্বাচন যেন সুষ্ঠু হয়। তবে সে সিদ্ধান্ত আমরা নিতে পারবো না। এটা নিতে হবে জনপ্রতিনিধিদের এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে।’