September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

রিজার্ভ ২৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। সোমবার(১৭ আগস্ট, ২০১৫) বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬.০৩ বিলিয়ন মাঃডঃ। যা গত ১৮ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে ছিল ২২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ সময়ে রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ১৭.৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে দেশের ৭ মাসেরও অধিক সময়ের আমদানি দায় পরিশোধ করা সম্ভব। এর আগে গত ২৫ জুন ২০১৫ তারিখে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছিল(২৫.০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার স্থিতিশীল বিনিময় হার বজায় থাকায় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি সহায়তা তহবিলের (রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল) পরিমাণ ও এর ব্যবহারের আওতা সম্প্রসারণ করায় এবং রপ্তানিকারকদেরকে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন প্রণোদনার ফলে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, প্রবাসী আয়ের সন্তোষজনক প্রবাহ অব্যাহত থাকা, বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগ ও বেসরকারিখাত কর্তৃক বৈদেশিক উৎস হতে অর্থায়ন গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি ইত্যাদির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার অন্তঃপ্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়া, দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় খাদ্য খাতে আমদানির পরিমাণ হ্রাসসহ আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য দ্রব্যের ও জ্বালানীর দাম হ্রাস পাওয়ায় আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও এসব পণ্যের মূল্য হ্রাস জনিত কারণে সার্বিকভাবে আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে; ফলে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে তা সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

এছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পে backward linkage-এ স্থানীয় কাঁচামালের উল্লেখযোগ্য যোগান দেয়া সম্ভব হওয়ায় বিদেশি উৎস হতে এ ধরনের পণ্যের আমদানি হ্রাস পেয়েছে।

আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে বৈদেশিক মুদ্রার রেমিট্যান্স বৃদ্ধিও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। রিজার্ভ স্থিতি বিবেচনায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। ভারতের রিজার্ভ স্থিতি ৩৫৩.০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং তৃতীয় স্থানে অবস্থানকারী পাকিস্তানের রিজার্ভ স্থিতি ১৮.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রিজার্ভের বর্তমান স্থিতি দ্বারা বাংলাদেশের পক্ষে ইন্টার্নাল বা এক্সটার্নাল যে কোন অর্থনৈতিক shock মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।