June 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

শিশু রাকিব হত্যা মামলার চার্জশিট শিগগিরই

খুলনা প্রতিনিধি : খুলনার আলোচিত শিশু রাকিব হত্যা মামলার চার্জশিট শিগগিরই দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলনা সদর থানার সেকেন্ড অফিসার কাজী মোস্তাক আহমেদ। চার্জশিট দাখিলের ক্ষেত্রে কোনো রকম দুর্বলতা রাখতে চান না বলেও জানান তিনি।

সোমবার সকালে তিনি জানান, শিশু রাকিবের হত্যাকারীরা যাতে আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে পুলিশ। এ মামলায় আরও সাক্ষ্য-প্রমাণ জোগাড়ের জন্য তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। মামলার অনেক সাক্ষীর এখনও ১৬১ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়নি। তারপরও দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দিতে চায় পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তা কাজী মোস্তাক আহমেদ বলেন, মামলার তিন আসামিই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। শরীফ ও মিন্টু মহানগর হাকিম আদালতে এবং শরীফের মা বিউটি বেগম খুলনা মহানগর হাকিম আয়েশা আক্তার মৌসুমীর আদালতে এ জবানবন্দি দেন। তবে এখনও প্রত্যক্ষদর্শী অনেকের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে।

তিনি বলেন, আলোচিত মামলাটির চার্জশীট দাখিলের ক্ষেত্রে আমরা কোনো রকম দুর্বলতা রাখতে চাই না। যদিও চার্জশিট দাখিলের জন্য এখনও পুলিশ কমিশনারের এমই (মেমো অব এভিডেন্স) নেওয়া হয়নি, তারপরও যত দ্রুত সম্ভব মামলাটির চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

এ বিষয়ে হত্যা মামলায় গঠিত খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্ত মনিটরিং সেলের সদস্য অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সিটিএসবি (নগর বিশেষ শাখা) শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, শিশু রাকিব হত্যা মামলার সকল আসামি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। মামলাটির আরও কিছু পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের সময়ে যাতে কোনোরকম ত্রুটি না থাকে সে জন্য মনিটরিং সেল সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৩ আগস্ট বিকেলে মোটরসাইকেলে হাওয়া দেওয়ার কমপ্রেসার মেশিনের পাইপ পায়ুপথে ঢুকিয়ে পেটে হাওয়া দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় রাকিবকে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের মোটরসাইকেল গ্যারেজ শরীফ মোটরসের মালিক শরীফ, তার মা বিউটি বেগম এবং সহযোগী মিন্টু মিয়াকে ক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

রাকিব হত্যা মামলার আসামি বিউটি বেগমকে ৬ আগষ্ট তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডের একদিন পরেই ৭ আগষ্ট বিউটি বেগম আদালতে ১৬৪ ধারায় (স্বীকারোক্তিমূলক) জবানবন্দি দেন। গণপিটুনিতে আহত মামলার প্রধান আসামি শরীফ ও মিন্টু চিকিৎসাধীন থাকায় তাদেরকে রিমান্ডে নিতে দেরি হয়।

পরে তারা সুস্থ হলে ১০ আগষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদেরকে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের একদিন পর মঙ্গলবার (১১ আগষ্ট) মামলার প্রধান আসামি শরীফ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর পরদিন বুধবার (১২ আগষ্ট) মামলার অপর আসামি মিন্টু আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।