September 18, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

সাংবাদিক প্রবীর সিকদার কারাগারে

ফরিদপুর প্রতিনিধি : তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফরিদপুরের আমলি আদালত-১ এর বিচারক হামিদুল ইসলাম এই নির্দেশ দেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম উল্লেখ করায় মর্যাদাহানির অভিযোগ এনে আইসিটি এ্যাক্টে করা মামলাটি মঙ্গলবার শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

এর আগে জীবন শঙ্কা নিয়ে সম্প্রতি ফেসবুকের এক স্ট্যাটাসে প্রবীর সিকদার স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম উল্লেখ করেন।

প্রবীরের ওই স্ট্যাটাসে রবিবার রাত ১১টার দিকে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে ফরিদপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা ও এপিপি এ্যাডভোকেট স্বপন কুমার পাল মামলাটি করেন।

মামলার আগে রবিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে রাজধানীর ইন্দিরা রোডের নিজ পত্রিকা কার্যালয় থেকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে প্রবীর সিকদারকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। এর পর সোমবার ভোরে সেখান থেকে তাকে ফরিদপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ফেসবুকে নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে যে স্ট্যাটাস দেন এই সাংবাদিক সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে এমন কথা বলেও তাকে আর তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। পরে তাকে রাতেই ফরিদপুরে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে রাতেই প্রবীর সিকদারের ছেলে সুপ্রিয় সিকদার বলেন, বাবার বিরুদ্ধে ফরিদপুরে আইসিটি আইনে মামলা হয়েছে। সে জন্য তাকে ফরিদপুরে নেওয়া হবে বলে তারা জানতে পেরেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১১ আগস্ট সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে ‘আমার জীবন শঙ্কা তথা মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী থাকবেন’ এই শিরোনামে নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি পোস্ট করেন প্রবীর সিকদার। তাতে লেখা হয়, ‘আমি আমার জীবনের শঙ্কার কথা পুলিশকে জানিয়েছি। কোনো লাভ হয়নি। তখনো ফেসবুকের মাধ্যমে আমার জীবন শঙ্কার কথা জনতার আদালতে পেশ করেছিলাম। আর কোনো অভিযোগ করবার সময় ও সুযোগ আমি নাও পেতে পারি। আমি আজ ফেসবুকের মাধ্যমে জনতার আদালতে জানিয়ে রাখছি আবার সেই জীবন শঙ্কার কথা। আমি খুব স্পষ্ট করেই বলছি, নিচের ব্যক্তিবর্গ আমার জীবন শঙ্কা, তথা মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবেন- ১. এলজিআরডিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, ২. রাজাকার নুলা মুসা ওরফে ড. মুসা বিন শমসের, ৩. ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী বাচ্চু রাজাকার ওরফে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং এই তিনজনের অনুসারী-সহযোগীরা। ফেসবুকের মাধ্যমে আমি সকল দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইছি।’

২০০১ সালে দৈনিক জনকণ্ঠের ফরিদপুর প্রতিনিধি থাকাকালে যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে কলাম লেখায় সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন প্রবীর সিকদার। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলায় তাকে একটা পা হারাতে হয়। পরে দেশে-বিদেশে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। এরপর তিনি কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে সাংবাদিকতা করেন। বর্তমানে তিনি নিজে একটি দৈনিক ‘বাংলা ৭১’ ও একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘উত্তরাধিকার নিউজ ডটকম’ চালাচ্ছেন। তবে তিনি জনকণ্ঠে থাকাকালীন ‘সেই রাজাকার’ শিরোনামে একটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

প্রবীর সিকদারের ছেলে সুপ্রিয় সিকদার বলেন, ২০০১ সালে বাবা জনকণ্ঠ পত্রিকায় মুসা বিন শমসেরকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন। এরপর বাবার ওপর হামলা করা হয়। কয়েক দিন আগে ওই কলামটি নিজের অনলাইন ও দৈনিকে প্রকাশ করা হয়েছে। কলামটিতে প্রচুর শেয়ার হয়েছে। এরপর থেকেই বাবাকে বেনামে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়।