September 18, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

স্মার্ট কার্ডের জন্য দুই ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করবে ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্মার্ট কার্ড দেওয়ার জন্য টাকা নিতে আগামী ১৯ আগস্ট ডাচ বাংলা ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এদিকে ফ্রি জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা পেতে আর মাত্র ১৩ দিন বাকি থাকায় হাজারো নাগরিক ভিড় করছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন সেবা নিতে আসা মানুষ।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, ১ সেপ্টেম্বর থেকে নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সেবা পেতে টাকা দিতে হবে । হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে প্রথমবারের জন্য ২০০ টাকা, জরুরি ৩০০ টাকা, দ্বিতীয়বার ৩০০ টাকা, জরুরি ৫০০ টাকা এবং পরবর্তীতে যেকোন বারের জন্য সাধারণ ৫০০ টাকা এবং জরুরি ১০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থ দিতে হবে।

আর প্রথমবার বিনামূল্যে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হলেও ১০ বছর পর পর ১০০ টাকা ফি দিয়ে নবায়ন করতে হবে এ কার্ড। এছাড়া ভোটার হওয়ার যোগ্য নন এমন নাগরিককেও এ পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইডিয়া নামের প্রকল্পের (আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাক্সেস টু সার্ভিসেস) আওতায় ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে সব নাগরিকদের পর্যায়ক্রমে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার কথা রয়েছে।

তারা আরো জানান, আগামী ১৯ আগস্ট ডাচ বাংলা ব্যাংক ও ব্র্যাক  ব্যাংকের সঙ্গে এ সংক্রান্ত চুক্তি করতে যাচ্ছে কমিশন। হোটেল রেডিসন ব্লুতে এ চুক্তি অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে।

এদিকে ১ সেপ্টেম্বর থেকে অর্থ লাগবে জেনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিদিন হাজারো নাগরিক জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে ভিড় করছেন। কেউ জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, কেউ ঠিকানা পরিবর্তন আবার কেউ হারানো কার্ড তুলার জন্য সেখানে যাচ্ছেন। তবে এসবের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগই এসেছেন কার্ডের ভুল সংশোধন করতে।

অনেকেই দ্রুত কার্ড পেতে দালালদের ফাঁদে পড়ছেন। জনবল সংকটে প্রায় ১০ কোটি নাগরিকের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে ইসি। মাত্র তিন-চারটি ডেস্ক এর মাধ্যমে বিশাল এ সেবা দিচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দিন জানান, ১ সেপ্টেম্বর থেকে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবা নিতে হবে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো স্মার্ট কার্ড তৈরি শুরু হয়নি। এটি তৈরির প্রস্তুতি চলছে। কয়েক মাসের মধ্যেই এ কার্ড দেওয়া শুরু হবে।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ ২০১৪ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদে প্রায় ৪৭ লাখ নতুন ভোটার করা হয়। এবারের হালনাগাদে আরো নতুন ৭২ লাখ ভোটারের টার্গেট নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো গতবছরের প্রায় অর্ধকোটি ভোটারের এনআইডি কার্ড দেওয়া হয়নি। তারা সরকারি বা বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সেবা পেতে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনায় পড়ছেন।

কর্মকর্তারা আরো জানান, ২০১১ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় নাগরিকদের স্মার্ট কার্ড দেওয়ার প্রকল্প। আগস্টের শেষেই এ কার্ড তৈরি শুরু হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দিন।