December 6, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ভিসা-টিকিটসহ নানা জটিলতায় দুর্ভোগে হাজারো হজযাত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : টিকিট বুকিংসহ নানা কারণে বিলম্বিত হচ্ছে একের পর এক হজ ফ্লাইট। এতে চরম দুর্ভোগ পড়েছেন সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে গমনেচ্ছু শত শত হজযাত্রী। ফ্লাইটের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। যাত্রীদের আশঙ্কা কাটছে না। ঢাকার উত্তরায় আশকোনা হজ ক্যাম্পে অপেক্ষমাণ শত শত হজযাত্রী তিন/চার দিন ধরে অপেক্ষা করেও ভিসা জটিলতায় সৌদি আরবে যেতে পারছেন না। জটিলতা কাটিয়ে কবে, কখন তাদের ফ্লাইট হবে, হজ অফিস থেকে তা নিশ্চিত হতে না পারায় উদ্বেগ তাদের।

হজ অফিসের আইটি প্রধান কবির হোসেন জানান, গতকালের (সোমবার) ভিসা সংক্রান্ত যে জটিলতা ছিল তা রাতেই সমাধান হয়েছে। যারা যেতে পারেননি তাদের ফ্লাইট রি-শিডিউল হবে। কিন্তু তার কথার প্রতিফলন মেলেনি। সোমবার রাত ১২টার পর ভিসা সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। এরপরও কেন ফ্লাইট বিলম্ব, এমন প্রশ্নের জবাবে  হজ অফিস পরিচালক আবু সালেহ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘একট ফ্লাইট চালু করার আগে কিছু কাজ শেষ করতে হয়। সেই কাজগুলো শেষ করতে যে প্রক্রিয়াগত যে সমস্যা, সেই সমস্যা এখনও রয়ে গেছে।’

সরকারি ব্যবস্থাপনায় সোমবার সকাল ৯টায় ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিলো বিমানের একটি ফ্লাইটের। কিন্তু ভিসা জটিলতায় পড়ে তারা ঢাকা ছেড়ে যান প্রায় ২৩ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সকালে। এবার সরকারি-বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনার হাজার হাজার যাত্রীকে সম্মুখীন হতে হচ্ছে এমন সমস্যার।

সোমবার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটিতে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪১৯ জন হজযাত্রী যেতে পারেননি। এছাড়া ওই দিন অন্যান্য ফ্লাইটেও আরও কয়েকজন সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী ভিসা জটিলতায় যেতে পারেননি।

hazz-totalমঙ্গলবার সরেজমিনে হজ ক্যাম্প ঘুরে দেখা যায়, সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীরা হজ অফিসের পরিচালক, সহকারী কর্মকর্তা ও আইটি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে ভিড় জমাচ্ছেন। সকাল সাড়ে ৯টার পর থেকে দুপুর ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হজ অফিসের পরিচালক ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামালকে তার কক্ষে পাওয়া যায়নি। তিনি বিমান অফিসে গেছেন বলে জানান অফিসের এক কর্মচারী।

পাশের রুমেই সহকারী হজ কর্মকর্তা আব্দুল মালেককে ঘিরে রাখতে দেখা গেছে ভোগান্তির শিকার হজযাত্রীদের।

সেখানে কথা হয় ময়মনসিংহের আব্দুল কাদেরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সোমবার সকালে আমাদের ফ্লাইট ছিল। কিন্তু ভিসা না পাওয়ায় আমরা যেতে পারিনি। অফিস থেকে শুধু বলছে হয়ে যাবে, হয়ে যাবে। কিন্তু এখনো ভিসা হাতে পাইনি। ফ্লাইট কখন হবে তাও জানি না।’ তার সঙ্গে থাকা আরও কমপক্ষে ১০/১২জন একই ধরনের অভিযোগ করেন।

এদিকে সহকারী হজ কর্মকর্তাকে এ সময় উৎকণ্ঠায় থাকা হজযাত্রীদের শুধু আশ্বাসই দিচ্ছিলেন। সাংবাদিক পরিচয়ে তার কাছে এ ব্যাপারে তথ্য চাওয়া হলেও তিনি কথা বলেননি। তাকে কখনো হজ এজেন্সির লোকজনের সঙ্গে আবার কখনো বা হন্তদন্ত হয়ে এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে দৌড়াতে দেখা গেছে।

হজযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ভিসা মিললেও বিমানের টিকিট বুকিং নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীরা। হজযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে, চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ৪১৭ হজযাত্রী নিয়ে জেদ্দার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বাংলাদেশ বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইট। গতরাত ৯টা ২৫ মিনিটে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ২০ মিনিট দেরিতে বিমানের BG-101 ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে এই হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন। এ সময় সেখানে বাংলাদেশ বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

চলতি বছর চট্টগ্রাম থেকে নয় হাজার যাত্রী হজ করতে যাবেন। এদের মধ্যে বিমানের ১৬টি ডেডিকেটেড ফ্লাইট ও ৯টি নিয়মিত ফ্লাইটে বেশিরভাগ যাত্রী চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি জেদ্দা যাবেন। হজ যাত্রীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও বিমান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই বছরই প্রথম শুরু হলো সরাসরি ফ্লাইট কার্যক্রম। এদিকে, হাজীরা নির্বিঘ্নে হজ পালনের উদ্দেশে দেশ ছাড়তে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এ বছর পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরবে যাচ্ছেন এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন দুই হাজার ৬৫০জন। বাকিরা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাবেন। গত রবিবার সকালে হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে। এ বছরই প্রথম অনলাইনে ভিসা প্রসেসিং শুরু হয়।