September 24, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

মৃত্যুর ৪ মাস পর হত্যা মামলা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি : শেখেরহাট ইউনিয়নের কুতুবকাঠি গ্রামে ৪ মাস আগে গাছ থেকে পড়ে মাহবুব নামের এক দিনমজুর মৃত্যুর ঘটনায় ৮ জনকে আসামি করে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে নেওয়ার জন্য ঝালকাঠি সদর থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। গত ৩ আগস্ট নিহতের মা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে ঝালকাঠির সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩০২/৩৪ দণ্ডবিধি ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।

এদিকে এ ঘটনায় ঢাকার শাহবাগ থানায় ১২ এপ্রিল একটি ইউডি মামলা (নম্বর ৬৮২/১৫) দায়ের করা হয়। পুলিশ মৃতের লাশ ময়নাতদন্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। ১৩ এপ্রিল পরিবারের লোকজন তার মৃতদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করে।

এ ব্যাপারে গত শুক্রবার সরেজমিনে গেলে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার উপস্থিত শত শত লোক এ ঘটনায় মামলা দায়েরকে হয়রানি ও পূর্বশত্রুতার জের বলে উল্লেখ করেন।

মামলার আসামিরা হলো, একই গ্রামের বাবুল চোকদার, খোকন সিকদার, বাবুল সিকদার, গাবখান গ্রামের মিন্টু ওরফে কানাই, নওপাড়া গ্রামের সফিকুল চোকদার ও রফিকুল চোকদার, কাউখালী উপজেলার বড় বিড়ালজুড়ি গ্রামের জাহাঙ্গীর হাওলাদার ও বারুহার গ্রামের সৈয়দ আলী মাঝী। মামলাটি সদর থানায় এজাহারের অপেক্ষায় রয়েছে।

মামলার সাক্ষী নুরুল আলম  ও মানিক হাওলাদার জানায়, আমরা শুনেছি মাহবুব গত ৩ এপিল তালগাছ থেকে পড়ে আহত হলে অসুস্থ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ও পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শেবাচিম ও পরে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় গত ১২ এপ্রিল তার মৃত হয়।

মামলার বাদী মমতাজ বেগম তার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন গত ৩ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে আসামিরা তার পুত্র মাহবুবকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে এবং মৃত নিশ্চিত ভেবে ফেলে রেখে যায়। এ সময় মামলার দুসাক্ষীর ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে গুরুতর জখম অবস্থায় ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বীরেন মন্ডল (৪৫) জানান, ঘটনার পরে মোবাইল ফোনে জানতে পারি, মাহবুব তালগাছ থেকে পড়ে আহত হয়। তখন চিকিৎসার জন তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে বলি। এর কয়েকদিন পর সে চিকিৎসারত অবস্থায় ঢাকায় মারা যান। তবে এ ঘটনায় নিরীহ লোকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

তবে এলাকাবাসী এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য মৃতের মামা পুলিশ সদস্য আ. আউয়ালকে দায়ী করেন।

তারা জানায়, মৃত মাহবুব একজন দিনমজুর, কখনও মাছ ধরে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। একে হত্যা করার মতো শক্র কেউ ছিল না। এদিকে মামলার আসামি এবং এলাকাবাসী ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে পরিবারগুলোকে হয়রানি থেকে মুক্তির জন্য প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।