October 23, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

শিশু দুর্জয় হত্যা চেষ্টা: ‘রীনা রাণী’র মৃত্যুদণ্ড

যশোর প্রতিনিধি : যশোরের বাঘারপাড়ার আজমেহেরপুর গ্রামের ১ মাস ১৯ দিনের শিশু দুর্জয়কে অ্যাসিড খাইয়ে হত্যা চেষ্টার মামলায় কাকী রীনা রাণী তরফদারকে মৃত্যুদণ্ড ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে একটি আদালত। রীনা রাণী পরিতোষ কুমার তরফদারের স্ত্রী।

রোববার এক রায়ে অতিরিক্ত দায়রা জজ (চতুর্থ আদালত) ও এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো: শরীফ হোসেন হায়দার এ সাজা দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে এপিপি আবু সেলিম রানা বলেন, আমরা যথাযথ সময়ে সাক্ষীদের আদালতে হাজির করে সাক্ষ্য দিতে সক্ষম হয়েছি। আদালত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীর উপযুক্ত সাজা দিয়েছেন।

মামলার অভিযাগে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ১১ জানুয়ারি সকালে দুর্জয়ের মা তাকে পোলিও টিকা খাওয়াতে নিয়ে যায়। দুপুরে বাড়ি ফিরে দুর্জয় কান্নাকাটি করায় রান্না করতে অসুবিধা হচ্ছিল তার মা ইতি রাণীর। এ সময় দুর্জয়ের কাকী রীনা রাণী তাকে কোলে নিয়ে ঘরে যায়। কিছু সময় পর দুর্জয় চিৎকার করে কান্না শুরু করলে ইতি রাণী ঘরে গিয়ে দেখেন দুর্জয়ের গায়ের সোয়েটার দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং ঠোঁট গাল ও গলা ঝলসে গেছে। মুখ দিয়ে লালা বের হচ্ছে। এ সময় রীনার কাছে দুর্জয়ের এ অবস্থার কারণ জানতে চাইলে সে কিছু না বলে কোলে দিয়ে চলে যায়। প্রথমে দুর্জয়কে বাঘারপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানায়, সে অ্যাসিড বার্নে আক্রান্ত হয়েছে। সাথে সাথে দুর্জয়কে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়। ২৯ দিন চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকা মেডিকেল, অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘জীবনতারা’ হসপিটাল, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য হংকং নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর দেশে ফিরে ২০০৭ সালের ৭ মে বাঘারপাড়া থানায় দুর্জয়ের মা ইতি রাণী তরফদার বাদী হয়ে অ্যাসিড অপরাধ দমন আইনে মামলা করেন। আসামি করা হয় দুর্জয়ের কাকী রীনা রাণীকে। এ মামলার তদন্ত শেষে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২৩ জুলাই রীনা রাণীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আফছার আলী দেওয়ান।

এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি রীনা রাণীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত রীনা রাণী ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।