January 29, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল নিয়ে ভেবে দেখা হবে : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : নতুন বেতন কাঠামোয় সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বহাল রাখার বিষয়টি নতুন করে ভেবে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড একসঙ্গে রাখার পক্ষে নই। এর মধ্যে যেকোনো একটি বাদ দেব। বিষয়টি নিয়ে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সভাকক্ষে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) সমন্বয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে বিসিএস সমন্বয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কবির আহমেদ ভূঁইয়া, মহাসচিব ফিরোজ খান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিসিএস সমন্বয় কমিটির পক্ষে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৫ সালের প্রস্তাবিত বেতন স্কেলে গ্রেড-১ এর ওপরে অতিরিক্ত তিনটি বেতন স্তর বসিয়ে নতুন করে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে, যা বিভিন্ন ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য অত্যন্ত অমর্যাদাকর ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। একটি স্বাধীন দেশের সিভিল সার্ভিসের বেতন কাঠামোতে এমন বৈষম্য অত্যন্ত দুঃখজনক।

এতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে গ্রেড-১ এর পরের তিনটি বেতন স্তর না রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। সচিব ও বিভিন্ন ক্যাডার ও ফাংশনাল সার্ভিসের গ্রেড-১ পদ একই পদমর্যাদায় ও একই বেতন স্কেলে থাকা বাঞ্চনীয়। আমরা পূর্বের ন্যায় সচিবদের বেতন গ্রেড-১ এ নির্ধারণ করে গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানাই। একই সঙ্গে, প্রস্তাবিত জাতীয় বেতন স্কেলে পূর্বের মতো সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বহাল রাখার আহ্বান জানাই।

কমিটির নেতারা অর্থমন্ত্রীকে বলেন, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ দিলে ২৬টি ক্যাডারের ৬০ শতাংশ কর্মকর্তা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রশাসনে পদোন্নতির বিষয়ে ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। যা কমিয়ে না আনা পর্যন্ত এটি বাতিল করা মোটেও ঠিক হবে না। একই সঙ্গে, দাবি মানা না হলে প্রশাসনে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়তে পারে বলে জানান তারা।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি প্রথমেই এই পদ্ধতির পক্ষে ছিলাম না। আপনাদের কথা শুনে মনে হচ্ছে আমার ধারণা সঠিক ছিল। এখন এ বিষয় নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। বেতন কমিশন এখনো অনুমোদন হয়নি। এ বিষয়ে সংশোধনী আনার সুযোগ রয়েছে।