January 29, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

খালেদার আবেদনের ওপর আদেশ রোববার

আদালত প্রতিবেদক : বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে হাইকোর্টে দুটি আবেদনের ওপর শুনানি করা হয়েছে। আগামী রোববার এ আবেদনের ওপর আদেশ দেওয়া হবে।

বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ও মো. আব্দুর ররেব সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববর আদেশ দিবেন।

আদালতে খালেদার পক্ষে শুনানি করেন ব্যরিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। অন্যদিকে, দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খুরশিদ আলম খান।

গতকাল মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এ আবেদন দুটি দায়ের করেন।

প্রথম আবেদনটি হলো- এই মামলা সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে যে সব নথিপত্র রয়েছে সেগুলো উচ্চ আদালতে তলব করা। দ্বিতীয় আবেদন হলো- এ মামলায় দুদকের প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করে যে চার্জশিট দিয়েছিল সে চার্জশিটের কপি উচ্চ অদালত আনা।

এই কর্মকর্তা খালেদা জিয়াকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করেছিলেন। পরে দুদক এ মামলাটি তদন্ত করতে নতুন করে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। এ মামলাটি দুদক পুনরায় তদন্ত করতে এই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়। তিনি এ মামলায় তদন্ত করে খালেদা জিয়াসহ বেশ কয়েকজনকে আসামী করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান খালেদার আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। তিনি বলেন, আমরা এ মামলায় নিম্ন আদালতে যে সব নথিপত্র রয়েছে সেগুলো উচ্চ আদালতে তলব করার আবেদন করেছি। এবং এ মামলায় দুদকের প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের মামলাটি তদন্ত করে যে চার্জশিট দিয়েছিল সেটার কপি উচ্চ অদালত আনতে আবেদন করেছি।

খালেদা জিয়া ও ১০ মন্ত্রীসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বিগত তত্ত্বাবাধয়ক সরকারের সময় এই মামলা করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে- চীনা প্রতিষ্ঠান কনসোর্টিয়াম অব চায়না ন্যাশনাল মেশিনারিজ ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের (সিএমসি) সঙ্গে বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করার মধ্য দিয়ে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতি করেছেন।

এ অভিযোগ এনে বিগত জরুরি অবস্থা চলাকালীন ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। শাহবাগ থানায় করা এ মামলায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতি হিসেবে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির অনুমোদন দিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে এ মামলা দায়ের ও অনুমোদনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে বাতিল আবেদন করা হয়।

রাষ্ট্রের কমপক্ষে এক হাজার কোটি টাকা ক্ষতির অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনকে আসামি করে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর মতিঝিল থানায় গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। মামলাটির অনুমোদনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের ১৫ জুলাই আদালত মামলার কার্যক্রম স্থগিত এবং রুল জারি করেন। এ ছাড়া এ মামলা জরুরি ক্ষমতা বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৭ সালে আলাদা একটি রিট আবেদন করা হয়। হাইকোর্ট এ বিষয়েও রুল জারি করেন।