January 28, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

‘‌বেশিরভাগ সড়ক দুর্ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলা যায়’

ডেস্ক প্রতিবেদন : তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলা যায় না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এর পেছনে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালক, বিচারহীনতার মতো অনেক বিষয় রয়েছে। ফলে প্রকারান্তরে এটাকে হত্যাকাণ্ড বলা যায়। বাংলাদেশের বেশিরভাগ সড়ক দুর্ঘটনাই এই কাতারে পড়ে। ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) এক সংলাপে এমন মত দেন বক্তারা।

ঢাবি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা স্মৃতিস্থাপনা চত্বরে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এবং ব্র্যাকের যৌথ আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং দুটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ সড়ক দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের স্মরণ করা হয়।

ছাত্র-শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অনেক মানুষ সংলাপে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন প্রখ্যাত চলচ্চিত্রনির্মাতা তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীর। সেই বিধ্বস্ত গাড়িটি দিয়ে দুর্ঘটনাকে প্রতীকী রূপ দিতে ঢাবি’র শামসুন নাহার হল সংলগ্ন ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পাশে একটি স্মৃতিভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর এটি উদ্বোধন করা হয়।

ভাস্কর্যটি উৎসর্গ করা হয়েছে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত মানুষদের প্রতি। ব্র্যাকের সহযোগিতায় এটি নির্মাণ করে তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে আমাদের চেয়ে বহুগুণ যানবাহন চলে। কিন্তু এ দেশে দুর্ঘটনার হার এত বেশি কেন? এজন্য দায়ী তদারকির অভাব আর সবার দায়িত্বহীনতা।

তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট-এর চেয়ারপার্সন ক্যাথরিন মাসুদ বলেন, ‘সড়ক নিরাপত্তা একটি বহুমাত্রিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মোকাবেলায় চাই সরকারের সঙ্গে সমাজের সর্বস্তরের সহযোগিতায় কার্যকর পদক্ষেপ। সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত ও যথাযথ বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’

ব্র্যাক-এর সিনিয়র ডিরেক্টর ফর স্ট্র্যাটেজি, কমিউনিকেশন অ্যান্ড এম্পাওয়ারমেন্ট আসিফ সালেহ বলেন, ‘দুর্ঘটনা বলতে বোঝায় যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে, কিন্তু আমাদের দুর্ঘটনাগুলো কি আসলেই সে রকম? তাই ‘নিরামিষ প্রতিবাদরূপী’ শোক পালন করলেই হবে না, যার যার দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করে যেতে হবে।’

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমাদের প্রশাসন, মালিক-চালক, পথচারী সবাই বেখেয়াল। পথচারীরা যত্রতত্র রাস্তা পার হয় মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে। নিজেদের জীবনের প্রতিও আমাদের দরদ নেই।’

মিশুক মুনীরের সহধর্মিনী মঞ্জুলি কাজী বলেন, ‘মহাসড়ক ঘেঁষে হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে, প্রশাসন নির্বিকার। স্কুলের পাঠ্যপুস্তকেও এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।’

আলোচনা শেষে সড়ক দুর্ঘটনা স্মৃতিস্থাপনায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের পর দুটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘স্মৃতিকথায় রানওয়ে’ এবং ‘আদম সুরত’ প্রদর্শন করা হয়। এর আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ।

উল্লেখ্য, সড়ক নিরাপত্তার লক্ষ্যে ২০০১ সাল থেকে ব্র্যাক বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ড্রাইভিং স্কুল পরিচালনা, গাড়ি চালনায় প্রশিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়াসহ সরকার, সুশীল সমাজ, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম।