July 2, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বন বিভাগের উদাসীনতায় অস্তিত্ব সংকটে রাতারগুল

সিলেট প্রতিনিধি : বাংলাদেশের একমাত্র মিঠা পানির জলারবন রাতারগুল রক্ষায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। বাংলাদেশের অন্যতম এই বনটি কেবল বন বিভাগের উদাসীনতায় ও লোভী দৃষ্টিতে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে অবস্থিত জলারবন রাতারগুল রক্ষায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল রাতারগুল বন পরিদর্শন শেষে আয়োজিত ভাসমান নৌসভায় এ কথা বলেন। এ পরিদর্শক দলের নেতৃত্ব দেন বাপা সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল।

শনিবার সিলেট নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে যাত্রা শুরু করে সাড়ে ১০টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী বন পরিদর্শন করেন পরিবেশ আন্দোলনকারী উচ্চ পর্যায়ের এই পরিদর্শক দলটি। পরে রাতারগুল বন পার্শ্ববর্তী শিয়ালীছড়া জলমগ্ন মাঠে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় আয়োজিত ভাসমান নৌসভায় তারা অংশগ্রহণ করেন।

এ প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক ড. কাজী খলিকুজ্জামান, রাশেদা কে চৌধুরী, খুশী কবির, ডা. মো. আব্দুল মতিন, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, শরীফ জামিল, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক নারায়ন সাহা প্রমুখ।

সমাবেশে অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, রাতারগুলে আমি এর আগেও এসেছি। আগে এখানে অনেক বন্যপ্রাণী দেখা গেলেও আজকে কোনো বন্যপ্রাণীর চিহ্ন দেখা যায়নি। এখানে সংরক্ষণের নামে বনবিভাগ নির্মিত ওয়াচ টাওয়ার এই বনের বৈশিষ্ট্যের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও দৃষ্টিকটু। এখানে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও সংরক্ষণের নামে যা করা হচ্ছে, তা এই বনের ধ্বংসকে ত্বরান্বিত করেছে। রাতারগুলকে শিক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে তিনি বলেন।

ড. কাজী খলিকুজ্জামান বলেন, রাতারগুল সম্পর্কে আমরা অনেক শুনেছি, আজ নিজ চোখে দেখলাম। রাতারগুলে বনবিরোধী কর্মকাণ্ড দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি। অবিলম্বে রাতারগুলকে সংরক্ষণের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহবান জানান।

শরীফ জামিল ২০১২ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাতারগুল সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকাণ্ড সভায় তুলে ধরে বলেন, পরিবেশবাদী ব্যক্তি ও সংগঠনের পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান ভিত্তিক জ্ঞানের সমন্বয়ে একটি সুচিন্তিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটি সংরক্ষণ প্রয়োজন।