July 1, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

সুস্থ হয়ে উঠছে ক্ষতবিক্ষত শিশুটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : কুকুরের কামড়ে ক্ষতবিক্ষত পরিচয়হীন সেই নবজাতক শিশুটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের স্পেশাল বেবি কেয়ার ইউনিটে (স্কাবো) চিকিৎসাধীন আছে শিশুটি।

কুকুরে কামড়ানোর ফলে সে সংক্রমণের শিকার হতে পারে এমন আশঙ্কা ছিল চিকিৎসকদের। মঙ্গলবার তার বয়স সাত দিন পূর্ণ হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটি আগের তুলনায় বেশ সুস্থ আছে, কোনো ধরনের সংক্রমণ হয়নি। তবে নাক, ঠোঁট ও আঙ্গুলের ক্ষত এখনো শুকায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নবজাতক শিশু বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা ওই নবজাতককে সুস্থ করে তুলতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সসহ সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সর্বোচ্চ সুচিকিৎসা নিশ্চিত হচ্ছে এই হতভাগিনী শিশুটির।

মঙ্গলবার দুপুরে সঙ্গে আলাপকালে অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা জানান, সাধারণত সাত দিন বয়সী শিশুর প্রয়োজনীয় গ্লুকোজ,  ইলেকট্রোলাইড ও ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদানের জন্য প্রতিদিন তিন বেলায় গড়ে ৩৭৫ এমএল মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজন হয়।

হতভাগিনী এই নবজাতকের গর্ভধারিণী মা পাশে না থাকায় চিকিৎসকদের কৌটার দুধের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তিনি জানান, নাকের উপরিভাগ থেকে ঠোঁটের নীচ পর্যন্ত (চিকিৎসকদের মতে মুখমণ্ডলের সবচেয়ে বিপদজনক জায়গা) কুকুরে কামড়ানোর ফলে ঠোঁটে দগদগে ঘা’য়ের সৃষ্টি হওয়ায় শিশুটি ঠোঁট দিয়ে দুধ চুষে খেতে পারছে না। ফলে তাকে ড্রপার ও ছোট চামচের সাহায্যে ১৭৫ এমএলের বেশি দুধ খাওয়ানো যাচ্ছে না। দুধের পাশাপাশি তাকে স্যালাইনের মাধ্যমে শরীরের ঘাটতি চাহিদা পূরণ করার প্রচেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

শিশুটি কবে নাগাদ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আরো দিন দশেক তাকে হাসপাতালেই রেখে চিকিৎসা দিতে হবে। কুকুরের কামড়ে ক্ষুদে এই শিশুটির বুড়ো আঙ্গুল ও তার পাশের আঙ্গুল খসে পড়ার অবস্থা হয়েছে। কুকুর কামড়ে ঠোঁটের মাংস ছিঁড়ে ফেলেছে। প্লাস্টিক সার্জনরা কনস্ট্রাকটিভ সার্জারির মাধ্যমে এটি জোড়া লাগাবেন বলে জানান তিনি।

শিশুটিকে কিছুদিন আগে রাজধানীর উত্তর কাফরুলের ডোরিন গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশে পুরাতন বিমানবন্দর এলাকার রানওয়ের পাশের ঝোপঝাড় থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় শিশুদের কাছে খবর পেয়ে জাহানারা বেগম নামের এক গৃহবধূ ওই নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ওই গৃহবধূ নিয়মিত হাসপাতালে এসে নবজাতক শিশুটির খোঁজখবর রাখছেন। পুলিশ এখনো শিশুটির মা-বাবা  কে তা অনুসন্ধান করে বের করতে পারেনি।