June 30, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

জুলাই থেকে ঘরে বসেই সকল আয়কর সেবা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : চলতি বছরের জুলাই থেকে আয়কর সেবা নিতে করদাতাকে আর কর অফিসে যেতে হবে না। ঘরে বসেই আয়কর রিটার্ন, ই-পেমেন্ট এমনকি প্রত্যয়নপত্রসহ আয়কর সংশ্লিষ্ট সকল সেবা পাওয়া যাবে।

আয়কর বিভাগের স্ট্রেনদেনিং গভার্নেন্স ম্যানেজমেন্ট প্রোজেক্ট (এসজিএমপি) প্রকল্পের আওতায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)  আয়কর সংশ্লিষ্ট সকল সুবিধাদি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে, যা চলতি বছরের জুলাই থেকে বাস্তবায়িত হবে।

শুধু করদাতাকে সেবা নয়, এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশব্যাপী মাঠ পর্যায়ের ৬৪৯টি আয়কর সার্কেল অফিসও এ ডিজিটাল সংযোগে যুক্ত হচ্ছে।

মঙ্গলবার এনবিআর সম্মেলন কক্ষে ‘কম্পিউটার সামগ্রী প্রদান ও ইন্সটলেশন’ অনুষ্ঠানে ওই প্রকল্পের পরিচালক ও এনবিআর সদস্য কালিপদ হাওলাদার এ তথ্য রাইজিংবিডিকে জানান।

তিনি জানান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় ভিয়েতনামভিত্তিক আইটি প্রতিষ্ঠান এফপিটি ইনফরমেশন সিস্টেম করপোরেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। করবিভাগকে পূর্ণাঙ্গ, স্বয়ংসম্পূর্ণ, আধুনিক, শক্তিশালী, জবাবদিহি ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পটি নিয়েছে এনবিআর। এনবিআরকে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আসতে প্রকল্পটি সহায়তা করবে।

তিনি আরো বলেন, ‘কম্পিউটার কাউন্সিলে মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে ডাটাবেজ মনিটরিং করা হবে। আমরা জুন থেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, জুলাই থেকে কাজ শুরু হবে।’

এই প্রকল্পের করসেবার বিষয়ে এনবিআর সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পের আওতায় যে কেউ অনলাইনে আয়কর রিটার্ন (আয়কর বিবরণী) পূরণ ও দাখিল করতে পারবেন। ঘরে বসেই পাবেন আয়কর রিটার্ন ও প্রাপ্তি স্বীকারপত্র।  ই-পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে কর প্রদান করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ব্যাংক, চালান বা ক্যাশের মাধ্যমে জমা দিয়ে নম্বরটি অনলাইনে দিয়ে দিতে হবে। সব ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে যে কোনো করদাতা যেকোনো ব্যাংকের অনলাইনে একাউন্ট থেকে কর দিতে পারবেন।

এ ছাড়া আগের পদ্ধতিতে চাইলেও যেকোনো করদাতা কর অফিসে সেবা পাবেন। ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন ও রি-রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন ও সনদপত্র পাবেন।

সূত্র জানায়, কর বিভাগের মাঠ পর্যায়ের অফিসসমূহ নেটওয়ার্কিংয়ের আওতায় আসবে এবং আপিল, কর অবকাশসহ বিবিধ কার্যক্রমেরও অটোমেশন হবে। অনলাইনে ডাটাবেজ ও রিপোর্ট জেনারেশন ও অটোমেশন হবে। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কর বিভাগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। মাঠ পর্যায়ের অফিসসমূহ একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিংয়ের আওতায় আসবে। এ প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আয়করে গতিশীলতা আসবে বলেও এনবিআর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বর্তমানে করদাতা কর সংক্রান্ত তথ্য জানতে কর অফিস, আইনজীবীর শরণাপন্ন হন। কিন্তু এসজিএমপি প্রকল্পের আওতায় করদাতারা সহজে অনলাইনে কর সংক্রান্ত সব তথ্য জানতে পারবেন। করসংক্রান্ত সব ফরম, নির্দেশিকা, কর আইন, কর্মকর্তার যাবতীয় তথ্য অনলাইনে থাকবে। ফলে কর অফিসে আসা, ফাইল খোঁজা, লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা, রশিদ কর অফিসে দেওয়া, রিটার্ন পূরণ, ঘুষ, হয়রানি ইত্যাদি বন্ধ হবে।  তবে করদাতা চাইলে কর কমিশনারদের সঙ্গে যোগযোগ করতে পারবেন।

এডিবির এক শতাংশের কম ঋণ সুদে এফপিটি ইনফরমেশন সিস্টেম করপোরেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্প মেয়াদ শেষ হলেও ২০১৮ সাল পর্যন্ত এফপিটি প্রকল্পটি তত্ত্বাবধায়ন করবে।