July 2, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

শাহবাগে দখলদারদের আস্তানায় উচ্ছেদ অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর শাহবাগে শিশুপার্ক, সংলগ্ন এলাকার রাস্তা, ফুটপাত ও পার্কিং স্থান দখল হয়ে ছিল বহু বছর ধরে। এর আগে কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েও রাস্তা-ফুটপাত দখলমুক্ত করা যায়নি। সকালে উচ্ছেদের পর বিকেলেই দখলদাররা সদর্পে ফিরে আসেন। বলা যায়, দখলদারদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছিল শাহবাগ। আর এই দখলবাজির কারণে শিশুপার্কে যাওয়া লোকজন ও পথচারীদের দুর্ভোগেরও যেন শেষ ছিল না। অবশেষে শাহবাগের এই দখলবাজদের উচ্ছেদ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শনিবার আধাবেলা অভিযান চালিয়ে শতাধিক অবৈধ দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ সময় শিশুপার্কের ভেতর সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং নির্ধাতির স্থানের বাইরে দোকান সম্প্রসারণ করার দায়ে দুটি দোকানকে নগদ অর্থ জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ। এ সময় প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খালিদ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে র‌্যাব ও পুলিশের বেশ কিছু সদস্য অংশ নেন।

ডিএসসিসির উদ্যোগে শনিবার বেলা সোয়া একটায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয় শিশুপার্কের পার্কিং স্থান থেকে। দখলবাজরা এখানে দোকানপাট তুলে এমন অবস্থা করে রেখেছিলেন যে, গাড়ি রাখারও জায়গা ছিল না। গাড়ির বদলে দোকান তুলে ভাড়া দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন তারা। অভিযান চালিয়ে পুরো পার্কিং এলাকা মুক্ত করা হয়েছে।

পার্কিং স্থান উদ্ধারের পর অভিযান চলে শিশুপার্কের ভেতর। এখানে ১৫টি অনুমোদিত দোকান রয়েছে। এসব দোকানের বিরুদ্ধে দর্শনার্থীদের অভিযোগ, প্রতিটি দোকানে জিনিসপত্রের দাম বেশি রাখা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত অপু স্ন্যাকস (দোকান নম্বর ১২) নামের একটি দোকানে পানির বোতলের দাম যাচাই করে দেখতে পান, অখ্যাত কোম্পানির আধা লিটারের এক বোতল পানির দাম রাখা হচ্ছে ২০ টাকা। বাজারে এই মানের পানির দাম ১০ টাকার বেশি হবে না। এমন তথ্য পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত শিশুপার্কের অপু স্ন্যাকসকে নগদ অর্থ জরিমানা করেন। এরপর অননুমোদিত স্থানে দোকান সম্প্রসারণ করার অপরাধে অভিজাত স্ন্যাকস (দোকান নম্বর-৭) নামের একটি দোকানকেও নগদ অর্থ জরিমানা করা হয়।

শিশুপার্ক ও পুলিশ কন্ট্রোল রুমের প্রবেশপথের মাঝামাঝি স্থানে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এখানে একটি রাজনৈতিক দলের নামে অফিস খুলে বসেছিলেন কয়েকজন। তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে এসব দোকান ও ঝুপড়ি ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ডিএসসিসির বুলডোজার দিয়ে।

শিশুপার্কে উচ্ছেদ অভিযানকালে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া দোকান৩উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে আবু আহমেদ নামে এক হকার বলেন, আমি তো নেতাদের টাকা দিয়ে এখানে বসেছি। তাহলে মোবাইল কোর্ট এলেন কেন? কোন নেতাকে টাকা দিয়েছেন, জানতে চাইলে তিনি কারও নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, ভাই, ঝামেলায় ফেলবেন না। আমার তো আবারও এখানে বসতে হবে। তিনি বলেন, উচ্ছেদের খবর পেয়ে দোকানের মালামাল সরিয়ে নিয়েছি। তবে চৌকিটা সরাতে পারিনি।

অভিযান চলার সময় আলাপকালে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খালিদ আহমেদ বলেন, আগেও কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের পর দখলদাররা আবারও ফেরত আসেন। তাই আজ আবারও অভিযান চালানো হচ্ছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি শিশুপার্কের দায়িত্বে থাকা ডিএসসিসির কর্মচারীদের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ বলেন, অবৈধ দোকানপাটগুলো শিশুপার্কে আসা লোকজনের যাতায়াতের পথ সংকীর্ণ করে রেখেছিল। এসব অবৈধ দোকানে অবস্থান করে ছিনতাইও করেছেন দুর্বৃত্তরা। তিনি বলেন, দোকানিদের মালামাল সরিয়ে নিতে কয়েক দিন আগে থেকেই এখানে মাইকিং করা হচ্ছে।