July 2, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার বিচার শুরু

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন মামলার ৩৫ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে। আজ অাদালত অভিযোগ গঠন করে এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে এই মামলার শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে ২৫ ফেব্রুয়ারি এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহনের আদেশ দেন বিচারক।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর কে.এম. ফজলুর রহমান জানান, ৭ খুন মামলার প্রধান আসামি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১১ এর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, কমান্ডার এম.এম. মাসুদ রানা, মেজর আরিফসহ ২৩ আসামিকে আজ আদালতে হাজির করা হয়েছে।

এর আগে ১১ জানুয়ারি ও ২৭ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল। অসুস্থতার কারণে এক আসামিকে আদালতে হাজির না করায় সে সময় অভিযোগ গঠন পেছানো হয়।

সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সাত খুনের ঘটনায় ফতুল্লা থানায় দুটি মামলা হয়েছে। সুষ্ঠু বিচার ও আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির লক্ষ্যে এ অভিযোগ গঠনের পক্ষে-বিপক্ষে শুনানি শুরু হয়েছে। এ বিচারকার্য দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করছি।

এর আগে কাশিমপুর ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনসহ আসামিদের সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জের আদালতে আনা হয়। এসময় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার হয়েছে আদালত চত্বরে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। ৩ দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদি হয়ে পৃথক মামলা করেন। উভয় মামলায় র‌্যাবের সাবেক ৩ কর্মকর্তাসহ ২২ আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

অন্য আসামিরা হলো- র‌্যাব সদস্য এসআই পূর্ণেন্দু বালা, এএসআই বজলুর রহমান ও আবুল কালাম আজাদ, হাবিলদার এমদাদুল হক ও নাসির উদ্দিন, কনস্টেবল শিহাব উদ্দিন ও বাবুল হাসান, আরওজি-১ আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, বেলাল হোসেন, ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিন, সিপাহী আবু তৈয়ব, নুরুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান নূর এবং নূর হোসেনের সহযোগী মোর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দীপু, রহম আলী ও আবুল বাশার।

র‌্যাবের সার্জেন্ট এনামুল কবীর, এএসআই কামাল হোসেন, কর্পোরাল মোখলেছুর রহমান, সৈনিক আব্দুল আলিম, মহিউদ্দিন মুন্সী, আল আমিন শরীফ, তাজুল ইসলাম ও কনস্টেবল হাবিবুর রহমানসহ মোট ১২ জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।