June 30, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

শত কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : খাবার অনুপযোগী গম আমদানি করায় দায়ী ব্যক্তিদের কাছ থেকে শত কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুপারিশ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সুপারিশ করেছে, আমদানি করা খাবার অনুপযোগী গমে ক্ষতি হয়েছে প্রায় শত কোটি টাকা। খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও অনিয়মের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। নিয়ম না মেনে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আগেই ৯০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ দায়ী ব্যক্তিদের কাছ থেকে আদায়ের পাশাপাশি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত বছরের ২৪ মার্চ খাদ্য মন্ত্রণালয় ঘোষিত দরপত্রের মাধ্যমে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ইমপেক্স কনসালটেন্ট লিমিটেড জাহাজযোগে ৫২ হাজার ৫০০ টন গম ফ্রান্স থেকে আমদানি করে। জাহাজটি একই বছরের ১০ মে চট্রগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়। সেখানে ৩১ হাজার ৫০০ টন গম খালাস করে। বাকি গম খালাস করতে জাহাজটি মংলা বন্দরে যায়। সেখানে গম খালাসে তদারকি কমিটি গুণগত মান পরীক্ষা করে খাবার অনুপযোগী বলে প্রমাণ পায়। ফলে ওই গম খালাস করতে অস্বীকৃতি জানায় তারা। এর আগে গম কেনার ১০০ কোটি টাকার মধ্যে ৯০ কোটি টাকা পরিশোধ করে খাদ্য অধিদফতর।

ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের একটি রিপোর্টও সংযুক্ত করা হয়েছে। গোয়েন্দা ওই রিপোর্টে গম কিনতে গিয়ে সরকারের প্রায় শত কোটি টাকা ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, গুণগত মান যাচাই করার পর টাকা পরিশোধের নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। এতে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, ইমপেক্স গ্রুপের স্বত্বাধিকারি সহিদ জাহাঙ্গীর ও নিম্নমানের গম সরবরাহে সহযোগিতাকারী সাবেক মহাপরিচালক মো. সারোয়ার খান, বর্তমান মহাপরিচালক ফয়েজ আহমেদ, পরিচালক (সংগ্রহ) এলাহী দাদ খানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া দুদকের মাধ্যমে তদন্তের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

এদিকে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্য অধিদফতরের বর্তমান মহাপরিচালক অনৈতিক মনোভাবপন্ন হওয়ায় তিনি যেকোনো প্রকারের অনৈতিক চাপে অনিয়ম করে থাকেন মর্মে প্রতীয়মান। বিশেষ করে তিনি খাদ্য অধিদফতরের দুর্নীতি সমৃদ্ধ সিন্ডিকেটের সকল নির্দেশ নির্দ্বিধায় পালন করেন। আরও বলা হয়েছে, খাদ্য অধিদফতর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ইমপেক্স গ্রুপের মাধ্যমে আমদানি করা গম ছাড়াও ৪টি প্যাকেজে গম আমদানি করে। ব্রাজিল থেকে আমদানি করা ওই ৪ প্যাকেজের মাধ্যমে ২ লাখ ৫ হাজার ১২৮ মেট্রিকটন গম নিম্নমানের হওয়ায় সারাদেশে আলোড়ন তৈরি হয়। যার ফলে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।