July 1, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

দিব্যি ছিলাম, পৃথিবীতে ফিরে বললেন স্কট

নব্বইয়ের মাঝামাঝি রেকর্ডটা করেছিলেন রুশ মহাকাশচারী ভালেরি পোলিয়াকভ। ১৯৯৪-৯৫ সালে টানা ৪৩৭ দিন মহাকাশে কাটিয়েছিলেন তিনি। সেই রেকর্ড আজও অক্ষুণ্ণ। তবে মার্কিন মহাকাশচারীদের মধ্যে এ বার নতুন রেকর্ড গড়লেন স্কট কেলি। ৩৪০ দিন মহাকাশে কাটিয়ে পৃথিবীতে ফিরলেন তিনি।

আজ ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ মধ্য কাজাখস্তানের জেজকাজানের এক নির্জন প্রান্তে নামে রুশ মহাকাশযান ‘সয়ুজ টিএমএ-১৮ এম’। যার অন্যতম যাত্রী ছিলেন স্কট। স্কটের সঙ্গেই আজ পৃথিবীতে ফিরেছেন আরও দুই রুশ মহাকাশচারী। মিখাইল করনিয়েনকো এবং সের্গে ভোলকভ। শেষের দু’জন অবশ্য শেষ কয়েক মাস সঙ্গ দিয়েছেন স্কটকে। স্কটের মতো একটানা ৩৪০ দিন মহাকাশে কাটাননি তাঁরা।

গত বছরের ২৭ মার্চ এক নতুন অভিযান শুরু করেছিল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। কাজাখস্তান থেকেই রুশ রকেটে চেপে যাত্রা শুরু হয়েছিল সে দিন। মূলত মঙ্গল অভিযানের আগে খানিকটা হোমওয়ার্ক করতেই পাঠানো হয়েছিল স্কট কেলিকে। দীর্ঘ সময় ধরে মহাকর্ষের বাইরে থাকলে মস্তিষ্ক, চোখ, পেশি-সহ মানুষের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা খতিয়ে দেখতেই স্কট গিয়েছিলেন মহাকাশে। আজ অভিযান শেষের পরে নাসার তরফে চার্লস বোল্ডেন একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘‘স্কট কেলির এই অভিজ্ঞতা আমেরিকার মঙ্গল যাত্রায় একটা বড় ভূমিকা পালন করবে।’’

৫২ বছরের স্কটের অবশ্য এটাই প্রথম অভিযান ছিল না। এর আগেও তিন বার মহাকর্ষের সীমানা ছাড়িয়ে মহাকাশ-জগতে থেকে এসেছেন স্কট। আজ কাজাখস্তানে নামার পর পরই চার্টার্ড ফ্লাইটে তাঁকে হিউস্টনে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়। সেখানে মাসখানেক ধরে স্কটের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে বলে জানিয়েছে নাসা। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নাসার গবেষকরা চিন্তিত হলেও স্কট নিজে অবশ্য জানিয়েছেন তিনি দিব্য আছেন। জেজকাজানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বরং বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘‘পৃথিবীতে এমন কিছু জায়গা আছে, যেগুলো সব সময় দূষণে ঢেকে থাকে। আমি অপ্রত্যাশিত কিছু আবহাওয়া দেখেছি। কিছু বিশাল আকারের ঝড়, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। এগুলো মানুষের তৈরি।’’

আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে থাকাকালীনই নেট দুনিয়ার বাসিন্দাদের কাছে পরিচিত নাম স্কট কেলি। কারণ গত এক বছরে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে প্রচুর ছবি পোস্ট করেছেন স্কট। এ বার মহাকাশ ছেড়ে আসার আগেও সেখান থেকে তোলা শেষ সূর্যোদয়ের ছবি টুইটারে দিয়েছিলেন স্কট। মহাকাশ থেকে তোলা স্কটের বেশ কিছু ছবি ইন্টারনেটে রীতিমতো হিট। যার মধ্যে রয়েছে মেক্সিকোর দিকে ধেয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় প্যাট্রিশিয়া আর আলোকিত দক্ষিণ ভারতের ছবি। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক বৈষম্য মহাকাশ থেকে কী ভাবে ফুটে উঠেছে, তা-ও দেখিয়েছিলেন স্কট। উত্তর দিকে গাঢ় অন্ধকার আর আলো ঝলমলে দক্ষিণ কোরিয়া, স্কটের তোলা সেই ছবি প্রচুর প্রশংসা কুড়িয়েছে ইন্টারনেটে।

‘‘মহাকাশে এত দিন থাকার পরে কোনও অসুবিধা হচ্ছে না?’’ স্কট সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘মনে হচ্ছিল আরও ১০০ বছর কাটাতে পারব।’’ তার পরই জানালেন, বাড়ির সুইমিং পুলটায় কত ক্ষণে গিয়ে ঝাঁপাবেন, এখন তারই অপেক্ষায় তিনি।

সুত্র: আনন্দবাজার