July 1, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

দেশে ক্রুটিপূর্ণ নবজাতকের সংখ্যা বাড়ছে

ডেস্ক প্রতিবেদন:  পরিবেশ দূষণ, খাদ্যে ভেজালসহ নানা কারণে জম্মগত ক্রুটির নবজাতকের সংখ্যা আশংকাজনকহারে বাড়ছে- বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না গেলে দেশে শিশুস্বাস্থ্যখাতে অর্জিত সাফল্য। বিপর্যয়ের মুখে পড়ার আশংকাও করছেন তারা। তাদের মতে, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের মূল সমস্যা জম্মগত শারীরিক ক্রুটি যা জম্মের পরপর চিকিৎসার মাধ্যমে সহজেই সারানো যায়। অথচ নানা কুসংস্কার আর অজ্ঞতার কারণে এটা হয়না বলে পরবর্তীতে ওই শিশুকে পড়তে হয় নানা সামাজিক ও মানসিক সংকটে। আর এই প্রেক্ষাপটে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব জন্মগত ত্রুটি’ দিবস।

শিশুটির বয়স মোটে আট। কথা ছিল এ বয়সে সে আনন্দে-উচ্ছ্বাস আর হেসে-খেলে সময় কাটাবে। কিন্তু এখন সে পার করছে কষ্টের জীবন। জম্মগত ক্রুটির কারণে এই অবস্থা বলছেন চিকিৎসকরা। এ কারণে সমাজের মূল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন সে।

বিশ্বস্থাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বে প্রতি ৩৩জন নবজাতকের মধ্যে অন্তত একজন মুশফিকের মতো শারিরিক ত্রুটি নিয়ে জন্মায়। বুদ্ধিবৃত্তিক, স্বাস্থ্যগত ত্রুটি ছাড়াও আছে জিনগত ত্রুটি। আর সমাজের বোঝা হয়ে বেঁচে থাকা এসব শিশুকে নিয়ে বরাবরই কষ্টে ভারি হচ্ছে মা-বাবার বুক।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিশু সার্জারি বিভাগ ২০১৫ সালে জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মানো প্রায় আড়াই হাজার শিশুকে চিকিৎসা দিয়েছে। এর মধ্যে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে ৬৫ শতাংশ শিশু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গর্ভাবস্থায় একটু সচেতন হলেই এড়ানো যেতে পারে এই সমস্যা।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছে, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়ার মতো রোগের বিপরীতে আমাদের সাফল্য আসলেও দিন দিন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে জন্মগত ত্রুটি নেয়া শিশু। যা ম্লান করে দিতে পারে গত সময়ের স্বাস্থ্যখাতের যাবতীয় অর্জন।

জম্মগত ক্রুটির নবাজাতকের দ্রুত চিকিৎসার ব্যাপারে অভিভাবকদের অজ্ঞতা আর নানা কুসংস্কারও আছে দেশে দেশে। এ নিয়ে জনসেচনতা বাড়াতে ২০১৫ সাল থেকে ৩ মার্চকে ‘বিশ্ব জন্মগত ত্রুটি’ দিবস ঘোষনা করেছে বিশ্ব-স্বাস্থ্য সংস্থা।