June 30, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ধানসিঁড়ির আয়োজনে অরিজিৎ সিংয়ের কনসার্টে বিতর্কের জন্ম

ডেস্ক প্রতিবেদন : জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী শমী কায়সারের পরিচালনাধীন প্রতিষ্ঠান ধানসিঁড়ির আয়োজনে রাজধানী ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে ভারতের কণ্ঠশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের কনসার্টটি নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

 তিনি যখন মঞ্চে উঠলেন তখন সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত সাড়ে ৮ টা। শুরু হলো তার মাধুর্য্যপূর্ণ কন্ঠের পরিবেশনা।

তারপর শুরু করলেন শ্রোতাপ্রিয় সব গান। সঙ্গে তার অর্কেষ্ট্রা গ্রুপের ৭০ সদস্য।

arjit

মঞ্চে উঠেই গলায় উঠে এলো ‘ফিতুর’ গানটি। সঙ্গে সঙ্গে তুমুল করতালি এলো উপস্থিত শ্রোতাদের কাছ থেকে। এরপর একে একে গাইলেন জনম জনম, ওরে প্রিয়া, কিউকি তুম হি হো, হার কিসি কো গানগুলো। গেয়ে চলেছেন তিনি একের পর এক শ্রোতা-দর্শকপ্রিয় গানগুলো। তিনি জানেন তার ভক্তদের মুগ্ধ কিভাবে করা যায়। তাইতো মন্ত্রমুগ্ধের মতো তার গান শুনছে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো ভক্ত-শ্রোতারা। প্রিয় শিল্পীর গান ও স্বশরীরে প্রিয় শিল্পীকে পেয়ে যেন মাতোয়ারা হয়ে গেছে উপস্থিত হাজারো মুখ।

তবে আসরের পর্দা নামার ঠিক ঘণ্টাখানেক আগে দেশীয় কণ্ঠ তারকা মাহাদি ও এলিটা নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়ায় বিতর্ক চরমে উঠেছে।

কথা ছিল  কনসার্টটিতে অরিজিতের পাশাপাশি গাইবেন স্থানীয় কণ্ঠ তারকা এলিটা ও ক্লোজআপ ওয়ান তারকা মাহাদি।

বিষয়টি ফেসবুকসহ নানা সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন তুলেছে। অনেকেই এজন্য ধানসিঁড়ির সমালোচনা করেছেন। কেউ কেউ এমন স্ট্যাটাসও দিয়েছেন, এলিটা ও মাহাদি গাইবেন না জানলে এতো টাকায় টিকিট কাটতাম না।

পাশাপাশি সঙ্গীতাঙ্গনেও বিষয়টি বেশ জল ঘোলা করেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে জনপ্রিয় এক ব্যান্ড তারকা বললেন, গেল কয়েক বছর ধরেই আমাদের দেশের কিছু ইভেন্ট প্রতিষ্ঠান দেশীয় শিল্পীদের হেয় করে বিদেশি, বিশেষ করে ভারতীয় শিল্পীদের প্রাধান্য দিয়ে কনসার্ট আয়োজন করছে। এটা দুঃখজনক। আজকের ঘটনাটিও তেমনি। শমী কায়সারের মতো একজন বরেণ্য অভিনেত্রীর কাছে কেউ এমন ঘটনা আশা করে না।

তবে বেশ কিছু গণমাধ্যমে বলা হয়েছে যে, এলিটা বলেন, এটা একদমই ঠিক কথা নয়। আমি শমী আপাকে গেল ৫ তারিখেই জানিয়েছি যে এই কনসার্টে গান গাইতে পারবো না। এ বিষয়ে আমাদের মিচুয়াল আলাপ হয়েছে। তবু যারা বিষয়টি নিয়ে ভুল সংবাদ করছেন তাদের বলবো যে এমনটি না করাই ভালো। দেখুন, একজন শিল্পী অনেক কারণেই কনসার্ট থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। এখানে নেতিবাচক কিছু খুঁজতে যাওয়া ঠিক নয়।

এদিকে এই কনসার্টে গান না গাওয়া প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ক্লোজআপ ওয়ান তারকা মাহাদি। এলিটা সরে দাঁড়ানোর স্বাভাবিক কারণ দেখালেও মাহাদির নীরবতায় অনেকে দুয়ে দুয়ে চার মিলাচ্ছেন।

এখানেই শেষ নয়, অরিজিৎকে নিয়ে আয়োজিত কনসার্টে সাংবাদিকদেরও অবমূল্যায়নের মাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ধানসিঁড়ি। গেল দুই মাস ধরেই প্রতিষ্ঠানটি গণমাধ্যমে কনসার্টটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন। কথা ছিল বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন হবে অরিজিতকে নিয়ে। কিন্তু সাংবাদিকরা এ বিষয়ে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাননি।

পাশাপাশি কনসার্টের এক ঘণ্টা আগেও ধানসিঁড়ি সাংবাদিকদের পাস নিশ্চিত কর‍তে পারেনি। এ নিয়ে বেশ কিছু গণমাধ্যম ক্ষোভ প্রকাশ করলে ঠিক আধ ঘণ্টা আগে ফোন করে কনসার্টে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন ধানসিঁড়ি থেকে পিআরের দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তা।

কিন্তু কনসার্টে গিয়ে আবারো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় সংবাদকর্মীদের। প্রতিষ্ঠানটি খবর সংগ্রহের জন্য প্রতিবেদকদের প্রবেশের পাস দিলেও ফটোগ্রাফারদের ঢুকতে বাধা দেন। এ নিয়ে অনেকক্ষণ তর্ক-বিতর্ক চলে।

এসময় সাংবাদিকরা শমী কায়সারের সঙ্গে কথা বলার জন্য আর্মি স্টেডিয়ামের গেটে কর্তব্যরত ধানসিঁড়ির কর্মকর্তাদের অনুরোধ করলে তারা সাংবাদিকদের জবাব দেন, শমী কায়সার বললেও ফটোগ্রাফার প্রবেশ করতে পারবেন না। অবশেষে সংবাদকর্মীরা অনুষ্ঠান বয়কট করে চলে আসেন।

কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো কন্ঠে অরিজিতের সঙ্গে সুর মেলানো চলছে।