September 30, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে শিশুদের ডায়াবেটিস

নিজস্ব প্রতিবেদক : আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে শিশুদের ডায়াবেটিস। ‘খাদ্য ও পরিবেশ দূষণে বাংলাদেশে বয়স্কদের মতো শিশুদের ডায়াবেটিসের হারও ক্রমবর্ধমান।বাংলাদেশে শিশুর ডায়াবেটিসের হার ৫.২ ভাগ। এর মধ্যে বেশি আয়ের পরিবারে শিশুদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি।’

বুধবার পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেওয়া হয়। শিশুদের ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়া সংক্রান্তে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইব্রাহীম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ড. আবু সাঈদের নেতৃত্বে শিশুদের ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়া সংক্রান্ত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে শিশুর ডায়াবেটিসের হার হচ্ছে ৫.২ ভাগ।

গবেষণায় মোট অংশগ্রহণকারীদের ১ দশমিক ৮ ভাগ ডায়াবেটিস রোগাক্রান্ত বলে শনাক্ত করা হয়। ৩.৪ ভাগ অংশ গ্রহণকারীররক্তে ডায়াবেটিসমুখী প্রবণতা (আইএফজি) পাওয়া যায়। অর্থাৎ অংশগ্রহণকারী শিশুদের ৫.২ ভাগ ডায়াবেটিস রোগী ও রোগাক্রান্ত হওয়ার পথে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কম বয়সী শিশুর ডায়াবেটিসের হার বেশি এবং গ্রামের শিশুদের চেয়ে শহরের শিশুরা ডায়াবেটিসে বেশি আক্রান্ত হয়। পারিবারিক আয়ের সঙ্গে ডায়াবেটিসের একটি সরাসরি সম্পর্ক এ গবেষণায় উঠে আসে। এতে দেখা গেছে, যেসব পরিবারের আয় বেশি সেসব পরিবারের শিশুদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও তত বেশি।

তবে শিশুর লিঙ্গ, বিএমআই এবং মধ্যবাহুর পরিধির সঙ্গে ডায়াবেটিসের কোনো সম্পর্কসূত্র এই গবেষণায় পাওয়া যায়নি।

এই গবেষণা প্রসঙ্গে বলা হয়, এতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল মোট ২১৫২ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ছিল ১০৬৪ জন এবং ছাত্রী ছিল ১০৮৮ জন। গবেষণায় আর্থ-সামাজিক অবস্থা, দৈহিক উচ্চতা, শরীরের ওজন, বিএমআই, মধ্যবাহুর পরিধি, রক্তচাপ, অভুক্ত অবস্থায় রক্তের গ্লুকোজমাত্রা মূলতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এবং বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণের পাশাপাশি গবেষণায় প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো অনুসরণ করা হয়েছে।

এ গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ১৩.৩ বছর। এদের বিএমআই (বডি ম্যাস ইনডেক্স) হলো ১৮.৫ এবং মধ্যবাহুর পরিধি ছিল ১৮.৫ সেন্টিমিটার।

শিশুদের ডায়াবেটিস থেকে রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহন

শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শরীরচর্চার সুযোগ করে দিতে হবে। এ জন্য প্রতিটি স্কুল-কলেজে আবাসিক এলাকায় খেলার মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে।

এখানকার অধিকাংশ শিশু টিভি, ভিডিও গেম, ইন্টারনেটের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ প্রযুক্তির নানাবিধ ব্যবহার নিয়ে সারাক্ষণ বসে বা শুয়ে সময় কাটায়। ফলে শরীরের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এটিও শহুরে এবং উচ্চবিত্তীয় শিশুর স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ। এই প্রবণতাকে সীমিত করার পথ বের করতে হবে।

খাবারের নানাবিধ বিষ ও ক্ষতিকর পদার্থের মিশেল দেওয়ার কারণে শিশুর শরীরবৃত্তীয় কার্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। এতে শিশু নানাবিধ রোগের শিকারে পরিণত হচ্ছে। সমস্ত উপায়ে এটি বন্ধ করতে হবে।

গবেষণার ওপর মূল বক্তব্য দেন ইব্রাহীম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ডা. আবু সাঈদ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— পবা সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী, পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. মোজাহেরুল হক, বাংলাদেশ ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাবীবুল্লাহ তালুকদার, পবার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল, সহ-সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ সেলিম,প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, মডার্ন ক্লাবের সভাপতি আবুল হাসনাত ও প্রকৌশলী মো. আবদুস সাত্তার।

সভাপতিত্ব করেন পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান।