September 30, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

রিজার্ভ চুরির তথ্য পেতে ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায় সিআইডি দল

নিজস্ব প্রতিবেদক  বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) দুটি প্রতিনিধি দল ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কা গেছেন। সিআইডি সদর দফতর সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, রিজার্ভ চুরির ঘটনাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তের অংশ হিসেবেই প্রতিনিধি দল দুটি দেশ ত্যাগ করেছেন। আগামী ১০ দিনের জন্য তারা সেখানে তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করবেন। তদন্তের স্বার্থে সময় লাগলে সময়ও ক্ষেপন করতে পারেন তারা।

ফিলিপাইনে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সিআইডির ডিআইজি সাইফুল ইসলাম। অন্যরা হলেন সিআইডির অরগানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মীর্জা আব্দুল্লাহেল বাকী এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খান। গতকাল রাত ১২টায় এ প্রতিনিধি দলটি ফিলিপাইনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছে বলে সিআইডি সদর দফতর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এআইজি এনসিবি (ন্যাশনাল ক্রাইম ব্যুরো) ইন্টারপোল বাংলাদেশ প্রধান রফিকুল গনি। বাকি দুজন হলেন স্পেশাল পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা ও সিনিয়র এএসপি নাজমুল হোসেন। প্রতিনিধি দলটি রাতে ঢাকা ত্যাগ করেন। ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রও তথ্য দুটি নিশ্চিত করেছে।

দেশত্যাগের আগে সিআইডির অরগানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মীর্জা আব্দুল্লাহেল বাকী জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে তারা ফিলিপাইনে যাচ্ছেন। সেখানেও তারা তথ্য সংগ্রহ করবেন। তদন্তকালে বাংলাদেশে যেসব তথ্য পেয়েছেন ফিলিপিনীয়দের সঙ্গে শেয়ার করবেন। এর মাধ্যমে তদন্তে অগ্রগতি আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এর আগে, গত সোমবার স্যুইফ্ট ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান অ্যাডওয়ার্ড হাদ্দাদ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীর ও রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, হাদ্দাদের নেতৃত্বে ইন্টারব্যাংক আর্থিক টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেমের দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল সোমবার ঢাকায় আসেন। তারা স্যুইফ্ট অপারেশন সিস্টেম পরীক্ষা করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধিদল দেশটির বিদ্যমান স্যুইফ্ট নেটওয়ার্কিং সিস্টেম বিশ্লেষণ করেন। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে রিজার্ভ চুরির পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এব্যাপারে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শাহ আলম বলেন, তদন্ত অগ্রগতির জন্য স্যুইফ্ট দলকে সব ধরনের সহযোগিতা করছে সিআইডি। তাদের সঙ্গেই তিন সদস্যের একটি সিআইডি দল ফিলিপাইনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে আজ রাতে (ইতোমধ্যে চলে গেছেন) অপর একটি দল রিজার্ভ চুরির ঘটনা তদন্তে শ্রীলঙ্কা যাবে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের ইনকোয়েরারের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ফিলিপাইন থেকে ১০ কোটি ডলার বা ৮০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। এটিই ফিলিপাইনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থ পাচারের ঘটনা। যার একটি অংশ বাংলাদেশি ব্যাংক থেকে গেছে।

দেশটির মাকাতি শহরে অবস্থিত রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের একটি শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ ফিলিপাইনে যায়। এতে ওই ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপকের সম্পৃক্ততারও প্রমাণ মেলে। এরপর অবৈধভাবে বিদেশি মুদ্রা লেনদেনকারী ফিলরেম নামের এক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোর কাছে। এভাবে হাতবদল হয়ে সবশেষে ১০ কোটি ডলার ফিলিপাইন থেকে আবার অন্য দেশে পাচার হয়ে যায়।

ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সমালোচনা শুরু হয়। পদত্যাগ করেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আতিউর রহমান। নতুন গভর্নরও নিয়োগ দেয়া হয়। পল্টন থানায় রির্জাভ চুরির ঘটনায় দায়ের করা বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলাটি এখন সিআইডির অধীনে তদন্ত চলছে।