October 7, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হবে ৪ মে

নিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হবে আগামী ৪ মে বুধবার দিবাগত রাতে। শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশের আকাশে রজব মাসের চাঁদ দেখা গেছে। শনিবার থেকে ১৪৩৭ হিজরির রজব মাস শুরু হবে।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আমাদের দেশে সবে মেরাজের দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ দিন ঐচ্ছিক ছুটি।

মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী, ২৬ রজব দিবাগত রাতে ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.) আল্লাহ তা’য়ালার সাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন। এ বছর ২৬ রজব হবে আগামী ৪ মে।

চাঁদ দেখা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়য়ের যুগ্ম-সচিব মো. আমজাদ আলী। সভায় প্রধান তথ্য অফিসার এ কে এম শামীম চৌধুরী, আবহাওয়া অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আবদুর রহমান, স্পারসোর সিএসও মো. শাহ আলম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব মো. অহিদুল ইসলাম, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ও চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব আবু রায়হান উপস্থিত ছিলেন।

ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, ৬২০ খ্রিস্টাব্দের রজব মাসের ২৬ তারিখের দিবাগত পবিত্র এই রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর খাস রহমতে প্রথমে কাবা শরীফ থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন।

সেখানে নবীদের জামায়াতে ইমামতি করে তিনি ‘বোরাক’ নামের বাহনে ঊর্ধ্বলোকে গমন করেন এবং সিদরাতুল মুনতাহায় (ঊর্ধ্বলোকের শেষ সীমার বরই গাছ, ফেরেশতারা এরপর আর যেতে পারে না) উপস্থিত হন। ওই পর্যন্ত তার সফরসঙ্গী ছিলেন আল্লাহর ফেরেশতা হজরত জিবরাইল (আ.)।

তারপর সেখান থেকে তিনি ৭০ হাজার নূরের পর্দা পেরিয়ে আরশে আজিমে আল্লাহর দিদার (সাক্ষাৎ) লাভ করেন। সেখান থেকে তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ উপহার নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। মেরাজকালে মহানবী (সা.) সৃষ্টিজগতের সবকিছুর রহস্য স্বচক্ষে দেখেন বলেও উল্লেখ আছে।

তবে কোনো কোনো ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, মহানবীর (স.) মেরাজ দৈহিক নয়, বরং ছিল আত্মিক আরোহণ।

শবে মেরাজ মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদার। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল ইবাদত বন্দেগির মধ্য দিয়ে এই মূল্যবান রাত কাটান। অনেকে নফল রোজাও রাখেন এ দিন।