October 7, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

আজ ট্যানারি স্থানান্তরে ফের শুনানি

ডেস্ক প্রতিবেদন :  প্রায় ৫ ঘন্টা পুলিশি হেফাজতে থাকার পর আইনজীবীর মাধ্যমে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ায় ৩ ট্যানারি মালিককে আপাতত মুক্তি দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে অপর তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

রোববার সকাল-বিকাল উভয় বেলা শুনানি করে হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এদিন আদালতে উপস্থিত তিন ট্যানারি মালিকের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরী। আইনজীবী রইস উদ্দিন ছিলেন শিল্প সচিবের পক্ষে।

যে তিন জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে তারা হলেন,
১. মেসার্স মাহিন ট্যানারির আবদুল ওয়াদুদ মিয়া,
২. মেসার্স নবীপুর ট্যানারির আব্দুল ওয়াহাব এবং
৩. মেসার্স এশিয়া ট্যানারির মো. মফিজ মিয়া।

তবে আদালত অবমাননা সংক্রান্ত আবেদনের ওপর শুনানি আজ (১১ এপ্রিল) আবারও অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী মনজিল মোরশেদ।

সোমবার শুনানিতে আদালতে উপস্থিত থেকে ট্যানারি মালিকদের হাজারীবাগ থেকে কারখানা স্থানান্তরের অগ্রগতি প্রতিবেদন আকারে পেশ করতে বলা হয়েছে।

রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে কারখানা স্থানান্তর সংক্রান্ত নির্দেশ পালন না করায় গত ২৩ মার্চ ১০ ট্যানারি মালিককে তলব করেন আদালত।

নির্ধারিত দিন রোববার সকালে হাজির হয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা না দেওয়ায় তিন মালিককে পুলিশে সোপর্দ করার আদেশ দেন হাইকোর্ট। পরে কোর্ট তত্ত্বাবধায়কের মাধ্যমে তাদেরকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

রোববার বিকাল সাড়ে  ৩টার দিকে ট্যানারি মালিকদের আইনজীবী ফিদা এম কামাল তাদের পক্ষে আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

পরে রিট আবেদনকারী আইনজীবী মনজিল মোরশেদ জানান, শর্ত সাপেক্ষে ট্যানারি মালিকরা মুক্তি পেয়েছেন। আদেশ মেনে আদালতে হাজির হলেও ব্যাখ্যা জমা না দেওয়ায় তিন ট্যানারি মালিক বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আদালতের জিন্মায় থাকার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করায় এবং আগামীকাল (১১এপ্রিল) দুপুর একটার মধ্যে ট্যানারি সরানোর বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের শর্তে আদালত তাদের ছেড়ে দেন।

আদালতে থেকে শর্ত সাপেক্ষে ছেড়া দেওয়া তিন ট্যানারি মালিক হচ্ছেন-
১. পূবালী ট্যানারিজের মাহবুবুর রহমান,
২. রুমি লেদার ইন্ডাস্ট্রিজের গিয়াস উদ্দিন আহমেদ পাঠান ও
৩. মেসার্স প্যারামাউন্ট ট্যানারিজের মো. আকবর হোসেন।

হাইকোর্ট যে ১০ ট্যানারি মালিককে হাজির হতে বলেছিলেন তাদের মধ্যে রানা লেদার ইন্ডাস্ট্রিজের আরেফিন সামছুল আলামিন বিদেশে থাকায় তার পক্ষে আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক সময়ের আবেদন জানান। আদালত তাকে আগামী ৩ মে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

এছাড়া তিন ট্যানারি মালিক মারা গেছেন বলে জানান আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। তারা হলেন,
১. সালাম ট্যানারির মো. আব্দুস সালাম,
২. করিম লেদার ইউনিট-২ এর রেজাউল করিম আনসারী এবং
৩. জুলেট এন্টারপ্রাইজের মো. সায়েদুল হক মাস্টার।

এর আগে ২০০১ সালে ট্যানারি শিল্প হাজারীবাগ থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

এরপর ২০০৯ সালের ২৩ জুন আদালত অপর এক আদেশে ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগ ট্যানারি শিল্প অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল।

সরকারপক্ষের আবেদনে ওই সময়সীমা কয়েক দফায় বাড়ানোর পরও ট্যানারি শিল্প হাজারীবাগ থেকে স্থানান্তর না করায় পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ আদালত অবমাননার আবেদন করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ১৫ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল জারি করেন। ২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল শিল্প সচিব মোশাররফ হোসেন ভুইয়া আদালতে হাজির হয়ে যে ব্যাখ্যা দেন, তাতে ওই ১০টি প্রতিষ্ঠান বার বার তাগিদ স্বত্ত্বেও কারখানা স্থানান্তর করেনি। এরপর ওই ১০ কারখানা মালিকের প্রতি আদালত অবমাননার রুল জারি হয়, মালিকদের আদালতে তলব করা হয়।

মেহেদী হাসান বলেন, মক্কেলেরা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন এবং ট্যানারি অনত্র স্থানান্তরের কাজ শুরু করছেন। কি কি কাজ ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে জানিয়ে সোমবার (আজ ) প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।