October 7, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বাংলা নববর্ষ বা বৈশাখে স্বাদহীন পুরোনো ইলিশের জমজমাট ব্যবসা

ডেস্ক প্রতিবেদন : পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ-১৪২৩ উদযাপনের ক্ষণ গণনা চলছে। বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) নতুন বছরের আগমনবার্তা চারদিকে। এখন পহেলা বৈশাথ মানেই হচ্ছে ‘পান্তা-ইলিশ’। গত কয়েক দশক ধরে এটা এক ধরনের রেওয়াজে দাঁড়িয়েছে। যদিও বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে নববর্ষ পালনে পান্তা-ইলিশের কোনো যোগসূত্র নেই। কিন্তু যোগসূত্র থাকুক বা না-থাকুক ইলিশ এখন সোনার চেয়েও দামি।

প্রতিবছরের মতো এবারও বৈশাখের আগমনী বার্তা শুরুর পর তথা চৈত্র মাসের মাঝামাঝি থেকেই আগুন লেগেছে ইলিশের বাজারে। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে বাজারে যেমন জাটকা বিক্রি হচ্ছে, তেমনি অধিক লাভের আশায় দীর্ঘদিন কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগারে রাখা স্বাদ ও আমিষহীন ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি দামে। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একশ্রেণীর মুনাফালোভী ইলিশ সিন্ডিকেট।

‘পান্তা’ হচ্ছে গ্রাম-গঞ্জের গরিবের (কৃষক-শ্রমিক) খাবার। আগে কৃষকেরা পেঁয়াজ বা কাঁচা মরিচ দিয়ে পান্তা ভাত খেয়ে মাঠে যেতেন। আশির দশক থেকে গরিব বা কৃষকের সেই পান্তা ভাতের সঙ্গে ইলিশের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের এক ধরনের প্রবণতা শুরু হয়। ক্রমশ, বিষয়টি এমন দাঁড়িয়েছে যে, পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষের দিন পান্তা-ইলিশ না খেলে যেন বাঙালিপনাই থাকে না।

‘পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষের সঙ্গে পান্তা-ইলিশের কোনো সংযোগ নেই’- এটা এত দিন ধীরে সয়ে বা মৃদুকণ্ঠে উচ্চারিত হলেও এবার দেশের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কবি-সাহিত্যিক, শিক্ষক-সাংবাদিকসহ বিশিষ্টজনদের মুখে কথাটা বেশ জোরেশোরেই শোনা যাচ্ছে। ‘পান্তা-ইলিশের সঙ্গে পহেলা বৈশাখের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই’- এ ধরনের ঘোষণা দিয়ে এরই মধ্যে পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। এরই মধ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাব, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও পান্তা-ইলিশ বর্জনের ঘোষণা এসেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পান্তা-ইলিশের সংস্কৃতি মুনাফালোভী ইলিশ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটকে মজবুত করে রেখেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম, খুলনা, যশোর, পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগারে সারাবছর প্রচুর পরিমাণ ইলিশ মজুত করে রাখেন। অধিক মুনাফায় তারা পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশ বিক্রি করে থাকেন। নববর্ষ উপলক্ষে শুধু যে কোল্ড স্টোরেজে রাখা ইলিশের রমরমা বাণিজ্য হয় তা-ই নয়, জাটকা ধরা নিষিদ্ধ হলেও আসছে।

গত কয়েক দিন রাজধানীর কারওয়ান বাজার, খিলগাঁও, শান্তিনগর বাজার ঘুরে দেখা যায়, ১৫শ’ টাকা থেকে ৮-১০ হাজার টাকা কেজিতে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে জাটকা ইলিশও বিক্রি হচ্ছে সমানতালে। একইভাবে বিক্রি হচ্ছে থাই ও বার্মিজ ইলিশও।

জাটকা নিধন রোধ এবং মা ইলিশ সংরক্ষণে দীর্ঘদিনের সরকারি কার্যক্রমের ফলে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। ২০০৯ সালের আগে বছরে তিন লাখ টন ইলিশ উৎপাদন হতো। তা এখন বেড়ে চার লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। ৫শ’ টাকা কেজি দর হিসেবে যার বাজার মূল্য প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। আর যদি জাটকা নিধন সম্পূর্ণভাবে রোধ করা যায় তাহলে আরও এক লাখ টন ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। যার বাজার মূল্য কমপক্ষে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা এবং মিডিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’, যোগ করেন তিনি।