September 30, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ষড়যন্ত্রকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : শফিক রেহমানের নাম না নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমেরিকার আদালতে যে ষড়যন্ত্রকারীর নাম উঠেছে, সেই ষড়যন্ত্রকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যারা মানবাধিকারের কথা বলেন তারা বিএনপি-জামায়াতের কাছে কীভাবে যান? তাদের (বিএনপি-জামায়াত) কাছে পোড়া মানুষের গন্ধ। তাদের (যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে) মানবাধিকার আছে, আমাদের নেই? মুক্তচিন্তার নামে নোংরা কথা লেখা বিকৃত মানসিকতা। খুন-খারাবি করার দায়িত্ব আল্লাহ কাউকে দেয়নি।

রাজধানীর ফার্মগেট খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সোমবার বিকেলে ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, মানি লন্ডারিং করে খালেদা জিয়ার ছেলে। সেটা আমাদের প্রমাণ করতে হয়নি। বিদেশের আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা সেই টাকা ফিরিয়ে এনেছি। তাদের (বিএনপি) এত টাকা যে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাকে অর্থ দিয়ে কিনে ফেলেছে। কেন? জয়কে অপহরণ করবে হত্যা করবে। এটা কিন্তু আমেরিকার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। কোর্টে তারা (আমেরিকা) যে তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে, সেখানে বেরিয়ে এসেছে সেই শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমানদের নাম।

তিনি বলেন, যারা ষড়যন্ত্রকারী তাদের জন্য মায়াকান্না। যারা ভিকটিম সেখানে মানবাধিকার হরণ হয় না? সেটা নিয়ে তোলপাড় হয় না। তাদের তো লজ্জা হওয়া উচিত। তাদের নাম বিদেশি তদন্তে আসে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধীকে গ্রেফতার করা হলে যদি অপরাধ হয়, তাহলে কোনো হত্যার বিচার হবে না। যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমার মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে, যখন আমার মা-বাবা, ছোট ভাইকে হত্যা করা হলো তখন ইনডেমিনিটি দেওয়া হলো সে বিচার করা যাবে না। সেই বিচার আমরা করেছি। আমাদের কি কোনো মানবাধিকার নাই? আমাদের হত্যার ষড়যন্ত্র করলে আমরা বিচার করতে পারবো না? সকলের মানবাধিকার আছে, অধিকার শুধু আমাদের নাই। আওয়ামী লীগের কেউ হত্যার শিকার হলে অধিকার নাই।

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যার নাম উঠেছে আমেরিকার কোর্টে। সেখানে মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমরা এইটুকু বলতে চাই আমরা কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেই না।

শেখ হাসিনা বলেন, আরেক শ্রেণী বেরিয়েছে কি? মুক্ত চিন্তা। মুক্ত চিন্তা যদি নোংরা ভাষায় লেখা হয় এটা কখনোই মুক্ত চিন্তা নয়। এটা বিকৃত মানসিকতা। বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা লেখা আছে। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ যার যার ধর্ম পালন করতে পারবে। ইসলাম ধর্মেও সেই কথা বলা আছে। আমিও ধর্ম মানি। কিন্তু যখন আমি যাকে মানি তার সম্পর্কে বিকৃত কথা লেখে তখন আমার খারাপ লাগে। মুক্ত চিন্তা হলে ভালো কথা লিখুক। খুন-খারাবি করার দায়িত্ব আল্লাহ কাউকে দেয় নাই। আল্লাহ কাউকে বিচারের দায়িত্ব দিয়ে দেন নাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির ইতিহাসটা কি? ২০০১-০৬ পর্যন্ত অপকর্মের কারণেই এক-এগারো এসেছিল। বিরোধী দলে থাকতে তারা নির্বাচন ঠেকানোর নামে মানুষ পুড়িয়ে মারলো। যারা রাজনীতি করে তারা মানুষের জন্য রাজনীতি করে পুড়িয়ে মারা জন্য নয়। ছোট শিশুকে পর্যন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। তা ঘটিয়েছে বিএনপি-জামায়াত। তারা কীভাবে এ দেশের মানুষের সমর্থন পায়? যারা মানবাধিকারের কথা বলে, তারা কীভাবে এদের সঙ্গে দেখা করে? তাদের সঙ্গে দেখা করলেই তো পোড়া মানুষের গন্ধ পাওয়া যায়। কত পরিবার ধ্বংস করে দিয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোট। তারা আসে এ দেশের মানুষকে ধ্বংস করতে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ‘এতিমের টাকা আত্মসাৎকারীদের বিচার এ দেশে হবেই’ বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা এটা বিস্ময় নয়। যারা জাতির মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে তারা যখন ক্ষমতায় আসে খুব স্বাভাবিকভাবে সে দেশের উন্নতি হবে। যারা স্বাধীনতা চায় নাই, গণহত্যাকারী, তারা ক্ষমতায় থাকলে সে দেশের উন্নয়ন হবে না। এটাই স্বাভাবিক। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ পিছিয়ে যায়।