September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

আজ শুরু হচ্ছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ

ডেস্ক : ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে নামছে আজ বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ-আফগানিস্তানের মধ্যেকার তিন ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি মিরপুর জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ দুপুর আড়াইটায় শুরু হবে ।
একই ভেন্যুতে সিরিজের পরের দু’টি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ২৮ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর।
প্রতিপক্ষকে সমীহ করেই এই সিরিজটিকে গুরুত্বপূর্ণ মানছেন বাংলাদেশের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।
টেস্ট প্লেয়িং দেশের বাইরে আয়ারল্যান্ড, কেনিয়া ও নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ড ও কেনিয়ার বিপক্ষে দু’টি করে এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ওয়ানডে সিরিজ খেলে টাইগাররা।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে কখনো ওয়ানডে সিরিজ খেলা হয়নি বাংলাদেশের। সে ক্ষেত্রে ওয়ানডে ইতিহাসে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান সিরিজ অভিষেকের স্বাদই পাচ্ছে। তবে এর আগে ওয়ানডে ক্রিকেটে দু’দল দু’বার করে মুখোমুখি হয়েছে। সেখানে দু’দলের জয়ের পাল্লাটা সমান-সমানই।
২০১৪ সালে ১ মার্চ ফতুল্লায় প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ-আফগানিস্তান। এশিয়া কাপের ওই ম্যাচে মুশফিক বাহিনীকে ৩২ রানে হারিয়ে দেয় আফগানরা। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির এমন পারফরমেন্সে অবাকই হয় ক্রিকেট বিশ্ব।
তবে দ্বিতীয় সাক্ষাতে আফগানিস্তানকে হতাশায় ডুবায় বাংলাদেশ। বিশ্ব ক্রিকেটের সেরা মঞ্চ বিশ্বকাপের গত আসরে আফগানদের দাঁড়াতেই দেয়নি মাশরাফি বাহিনী। ১০৫ রানে আফগানিস্তানকে হারের ঢেঁকুর তুলতে বাধ্য করে বাংলাদেশ।
তাই অতীতে পরিসংখ্যানের কথা চিন্তা করে হলেও অথবা বর্তমান প্রেক্ষাপটে আফগানিস্তানদের সমীহ করছে বাংলাদেশ। এ জন্য তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটিকে বেশ গুরুত্বসহকারেই দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।
তিনি বলেন, ‘এটা খুবই গুরুত্ব¡পূর্ণ সিরিজ। বিশেষ করে আমরা শেষ এক বছর কোনো ম্যাচ খেলিনি। এখন আমরা একটা সিরিজে নামছি। এ জায়গা থেকেই এ সিরিজটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আফগানিস্তান এখন খুব ভালো করছে। এ কারণেও সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ।’
মাশরাফির মতে, ‘আফগানিস্তানকে সমীহর চোখে দেখছেন কোচ হাথুরুসিংহেও। আমরা এটাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ হিসেবে দেখছি। আফগানিস্তান বেশ শক্ত দল। তারা বৈশ্বিক পর্যায়ে অনেক ভালো দলের বিপক্ষে অঘটন ঘটিয়েছে। আমরা তাদের খুবই গুরুত্বের সাথেই দেখছি। আমরা অন্য দলগুলোর সঙ্গে যেভাবে পরিকল্পনা কিংবা প্রস্তুতি নিই, তেমন প্রস্তুতি নিয়েই কাল মাঠে নামবো।’
প্রায় ১০ মাসেরও বেশি সময় পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে নামছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০১৫ সালে দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলছে টাইগাররা। সিরিজটি ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিলো বাংলাদেশ।
এদিক দিয়ে বেশ তরতাজাই আছে আফগানিস্তান। গত জুলাইয়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে তারা। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজটি শেষপর্যন্ত ২-২ সমতায় শেষ হয়। তাই বিশ্ব ক্রিকেটে আফগানিস্তানের সুনামটা বর্তমানে বেশ ভারীই। এমন সুনাম বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আরো বলার অপেক্ষা রাখে না, গতকাল প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একাদশকে ৬৬ রানে হারিয়ে জাতীয় দলকে সতর্ক করার বার্তা দেয়াটা।
তবে এমন বার্তা থেকে ভড়কে না গিয়ে আফগানিস্তানের প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি। তার মতে, ‘আমাদের জেতার সুযোগ ছিলো। আমরা ওদের ২৩৩-এর মধ্যেই অলআউট করেছি। কিন্তু এরপর চেজ করতে পারিনি। জিততে পারলে অবশ্যই ভালো হতো। আমি মনে করি ওরা ভালো করেছে।’
বাংলাদেশ স্কোয়াড : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেন, তাইজুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম ও রুবেল হোসেন।
আফগানিস্তান স্কোয়াড : আসগর স্তানিকজাই (অধিনায়ক), আমির হামজা, দৌলত জারদান, ফরিদ আহমেদ, হাসমাতুল্লাহ সাইদি, ইহসানউল্লাহ জানাত, করিম জানাত, মিরওয়াইজ আশরাফ, মোহাম্মদ নবী, মোহাম্মদ শাহজাদ (উইকেটরক্ষক), নাজিবুল্লাহ জাদরান, নাভিন-উল-হক, নওরোজ মঙ্গল, রহমত শাহ, রশিদ খান, সামিউল্লাহ ে শেনওয়ারি ও সাবির নুরি।

সূত্র: বাসস